ময়মনসিংহের ভালুকায় পূর্ববিরোধ ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র ঋষি (৪৩) নামের এক হিন্দু সনাতনী সেলুন ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রবীন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে এবং তিনি ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় ভাড়া থেকে সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন রবীন্দ্রের সেলুনে গিয়ে তাকে হঠাৎ ছুরিকাঘাত করেন। জীবন বাঁচাতে রবীন্দ্র দৌড়ে পালিয়ে হামলাকারীর বাবার দোকানে আশ্রয় নিলেও নরপিশাচ সাদ্দাম সেখানেও তাকে ধাওয়া করে আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি বাড়ির উঠানে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পুরোনো বিভিন্ন বিরোধ ও হয়রানির কথা জানিয়েছে নিহতের পরিবার। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা অভিযোগ করেছেন যে, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে নেশার টাকার জন্য তার স্বামীকে চাপ দিয়ে আসছিলেন এবং সেলুনের সেবা নিয়ে টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলে। এছাড়া প্রায় তিন মাস আগে রবীন্দ্রের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার একটি ঘটনার জেরে স্থানীয় সালিশকে কেন্দ্র করেও এই ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে পরিবার ধারণা করছে। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। সনাতনী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন পরিশ্রমী মানুষের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি তুলেছে সচেতন মহল।
মতামত