জামায়াত নেতার দখল করা ৪২ শতাংশ মন্দিরের জমি উদ্ধারে সংবাদ সম্মেলন
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক মন্দিরের জমি এক প্রভাবশালী স্থানীয় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখল, হুমকি-ধামকি এবং অপপ্রচারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠি বাজারে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় অধিবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও জমির শরিক মনোজ বিশ্বাস। তিনি তুলে ধরেন যে, ১৯৬২ সালে সমুদয়কাঠি দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দিরের যাবতীয় ধর্মীয় উৎসব ও ব্যবহারের জন্য ৪২ শতাংশ জমি দান করা হয়েছিল। বিগত দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে উক্ত জমিটি মন্দিরের পবিত্র কার্যক্রমে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সরকারি সর্বশেষ বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৯৫২ নম্বর দাগে তা সঠিকভাবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। কিন্তু ২০১৬ সালে সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদার আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন, যেখানে সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করা হয়। যদিও ১৯৯৯ সালে শফিকুল ও তার ভাই যে জমির দলিল করেন, তার কোথাও এই মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির কোনো উল্লেখ ছিল না।অসাধু উপায়ে মামলার একতরফা রায় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে বক্তারা বলেন, প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে এই আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করা হয়েছে। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'—তবে মূল বৈষম্য দেখা দেয় ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর। অভিযোগ অনুসারে, ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত নেতা শফিকুল বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে ধান চাষ শুরু করেন। অথচ তার নিজস্ব নামজারিতে মাত্র ১০.৫০ শতাংশ জমির উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সনাতনী জনগণ ও সচেতন নাগরিকরা এই অন্যায় দখলে বাধা দিয়ে জমিতে 'শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দির'-এর সাইনবোর্ড টানিয়ে দিলে পরিস্থিতির মোড় অন্যদিকে ঘোরে।অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বর্তমানে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে সনাতনীদের মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে সংহতি জানিয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক টুটুল আইচ, সমুদয়কাঠি রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শেখর বাড়ৈ, সমাজসেবক মুজিবুর রহমান, কৃষিবিদ বরুণ কর, জাকির হোসেন খান, সুমন খান ও মরিয়ম বেগম। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো স্থানীয়দের মতে, শৈশব থেকেই তারা এই জমিতে পবিত্র শীতলা পূজা অনুষ্ঠিত হতে দেখে আসছেন। সার্বিক প্রেক্ষাপটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আইনগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।