এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মুকুট ফের মুকেশ আম্বানির দখলে
বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারের চরম অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন ভারতীয় ধনকুবের এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নিজ সম্পদে বিপুল পরিমাণ অর্থ যুক্ত করে আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি। তার এই অভাবনীয় অর্জনে পেছনে পড়ে গেছেন চিনের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ও বাইটড্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং।সোমবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দর ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি পায়। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বিনিয়োগকারীদের জোরদার আস্থা। বিশেষ করে, গত ২৮ অক্টোবর আম্বানির নিয়ন্ত্রণাধীন জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারবাজারে ঐতিহাসিক তালিকাভুক্তি বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে, যা তার ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এক দিনেই আম্বানির সম্পদ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৮৮০ কোটি ডলারে। এর ফলে তিনি এক লাফে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ২৩তম স্থানে উন্নীত হয়েছেন। বিপরীতে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঝাং ইমিংয়ের সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে আট হাজার ৪০০ কোটি ডলার।সোমবারে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,২৯৯ রুপিতে পৌঁছায়। এতে এক দিনেই রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সামগ্রিক বাজারমূল্য এক হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বৃদ্ধি পায়। কোম্পানিটির জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হতেই মূলধন বাজারে এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের অনুমানের চেয়েও বহু গুণ বেশি আয় করে চমক দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সময়ে রিলায়েন্স আয় করেছে ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি রুপি, যা প্রায় ২৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সমতুল্য। তেল পরিশোধন, রাসায়নিক পণ্য এবং বিশেষ করে টেলিকম খাতের অবিশ্বাস্য সাফল্য এই বিরাট আয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রেও এক ঐতিহাসিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন মুকেশ আম্বানি। সম্প্রতি জিও প্ল্যাটফর্মসের ঐতিহাসিক আইপিও-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে, যার আনুমানিক বাজার মূল্যায়ন করা হয় ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। লেনদেনের প্রথম দিনেই এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।প্রয়াত ধীরুভাই আম্বানি ১৯৫৭ সালে যে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, আজ তাঁর সুযোগ্য সন্তান মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ভারতের বৃহত্তম ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যালস, টেলিকমিউনিকেশন, রিটেইল, মিডিয়া এবং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সহ বহুমাত্রিক খাতে রাজত্ব করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ফোর্বসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ২০০০’ তালিকায় বিশ্বপর্যায়ে ৫৫তম স্থান দখল করা এই টেকসই ও প্রগতিশীল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রি প্রায় ১১ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার। এশিয়ার অর্থনৈতিক মানচিত্রে এই বিরাট অর্জন বৈশ্বিক বাজারে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক শক্তির এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করল।