ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি হত্যার বিচার দাবি, অসহায় পরিবারের পাশে নরসুন্দর কল্যাণ ফাউন্ডেশন
ময়মনসিংহের ভালুকায় সেলুন মালিক রবীন্দ্র ঋষির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নরসুন্দর সেলুন কল্যাণ ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ধীরেন্দ্র চন্দ্র শীল এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, সামান্য পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একজন কর্মজীবী মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত রবীন্দ্র ঋষি পেশায় একজন সেলুন মালিক ছিলেন। তাঁর উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন স্ত্রী, দুই ছোট মেয়ে ও এক ছেলেসন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্বজনদের কান্না ও অসহায়ত্ব স্থানীয় নরসুন্দর সমাজের সদস্যদেরও গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রবীন্দ্র ঋষির পরিবারের খোঁজখবর রাখছে বাংলাদেশ নরসুন্দর সেলুন কল্যাণ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান ও নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী ঝন্টু চন্দ্র শীলের তত্ত্বাবধানে একটি প্রতিনিধিদল নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা প্রতিনিধি অমৃতদা, ভালুকা পৌরসভা শাখার সভাপতি সমীর চন্দ্র ছোটন, সহসভাপতি জসিম রবি দাস, কোষাধ্যক্ষ নিখিল রবিদাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা।বাংলাদেশ নরসুন্দর সেলুন কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ধীরেন্দ্র চন্দ্র শীল বলেন, রবীন্দ্র ঋষির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি পুরো নরসুন্দর সমাজের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তাই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক দায়িত্ব।তিনি দেশের সব সেলুন মালিক, নরসুন্দর কর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী রবীন্দ্র ঋষির অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে পরিবারটির দুর্দিনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।ধীরেন্দ্র চন্দ্র শীল আরও বলেন, নরসুন্দর সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে একটি সুন্দর, মানবিক ও নিরাপদ পেশাজীবী সমাজ গড়ে তোলার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, ঐক্যই নরসুন্দর সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি। আজ রবীন্দ্র ঋষির পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু একটি মানবিক উদ্যোগ নয়, বরং পুরো নরসুন্দর সমাজের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।এদিকে নিহত রবীন্দ্র ঋষির পরিবারের জন্য সহযোগিতা কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহীদের সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও রংপুর বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ জন্য একটি বিকাশ নম্বরও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: ০১৭৩০-৯২৮৩৯৩ (বিকাশ)। অর্থ পাঠানোর আগে নম্বর ও প্রাপকের পরিচয় যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ নরসুন্দর সেলুন কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনটি রবীন্দ্র ঋষির পরিবারের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং নরসুন্দর পেশাজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ফাউন্ডেশন।