হিন্দুস নিউজ
Topic Ads 1
ধর্মীয় উগ্রবাদ ও মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে ১০ দফা দাবি, দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা

ধর্মীয় উগ্রবাদ ও মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে ১০ দফা দাবি, দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা

মৌলবাদ, মব সন্ত্রাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক বৈষম্য এবং সব ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’ নামের একটি সামাজিক ঐক্যজোট। সংবাদ সম্মেলন থেকে ১০ দফা দাবি উত্থাপনের পাশাপাশি আগামী নভেম্বর মাসে দেশব্যাপী স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, মশাল মিছিল ও লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সুফি-সুন্নি, সনাতন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাম্যবাদী, বাউল, আদিবাসী ও সংস্কৃতিমনস্ক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’ সামাজিক ঐক্যজোট গঠিত হয়েছে। দেশের সব ধর্ম, সম্প্রদায়, জাতিগোষ্ঠী ও মতাদর্শের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, জীবন, সম্পদ, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত আন্দোলন পরিচালনা করাই এই জোটের অন্যতম উদ্দেশ্য।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, মন্দির, আখড়া, খানকা, দরবার, ধর্মীয় উপাসনালয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও লোকজ ঐতিহ্যের ওপর হামলা এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।আয়োজকদের উত্থাপিত ১০ দফা দাবির প্রথমেই রয়েছে দেশের সব ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাজার, মন্দির, পূজামণ্ডপ, ওরশ, মেলা, যাত্রা, নাটক, সংগীতানুষ্ঠান, কনসার্ট এবং নারী ও কন্যাশিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ সব শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।দ্বিতীয় দাবিতে মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। প্রয়োজনে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নেরও আহ্বান জানানো হয়।তৃতীয় দাবিতে নিরাপত্তার অজুহাতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ওপর অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ বন্ধ করার কথা বলা হয়। আয়োজকরা বলেন, ওরশ, পূজা, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বন্ধ না করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।চতুর্থ দাবিতে ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস, অবিশ্বাস কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মব সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়।এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা রইস উদ্দিন, দিপু চন্দ্র দাস, শামীম আল জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরী ওরফে শামীম এবং ওয়াহিদুজ্জামান শামীমসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঘিরে উত্থাপিত সহিংসতার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়।পাশাপাশি রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, কুমিল্লার হোমনা ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়। ধর্ম রক্ষার নামে মৃত ব্যক্তির মরদেহের অবমাননার অভিযোগগুলোরও বিচার দাবি করেন আয়োজকরা।পঞ্চম দাবিতে ওরশ উদযাপনের ক্ষেত্রে হয়রানিমূলক অনুমতি গ্রহণের নিয়ম বাতিল এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।ষষ্ঠ দাবিতে বাউল, ফকির, সুফি সাধক ও সনাতনী সাধুদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রতীক ব্যবহারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বাউল-ফকিরদের চুল ও জটা, সাধুদের ত্রিশূল, রুদ্রাক্ষ, কণ্ঠি, বালা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক বহনের কারণে কাউকে অপমান, নির্যাতন বা সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।একই সঙ্গে বাংলার লোকায়ত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাধনসংগীত, প্রাচীন বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।সপ্তম দাবিতে নারীর জীবন, শরীর, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। নারী নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, পোশাকের কারণে হেনস্তা, বাল্যবিবাহ এবং নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চায় বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, আইন অনুযায়ী বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে শ্রম অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।অষ্টম দাবিতে দেশের ঐতিহাসিক সুফি মাজার ও খানকার ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য, ঐতিহ্য এবং সম্পত্তির সুরক্ষার দাবি জানানো হয়। শাহজালাল, শাহপরান, শাহ আলী, খানজাহান আলী, বায়েজিদ বোস্তামীসহ ঐতিহাসিক মাজারগুলোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি ওয়াকফ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের দাবি তুলে ধরা হয়।নবম দাবিতে অর্পিত ও পূর্বতন শত্রু সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু নাগরিকদের সম্পত্তির অধিকার পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়।আয়োজকরা দাবি করেন, বৈধ মালিকানা ও উত্তরাধিকার প্রমাণিত হলে সিএস খতিয়ানসহ ঐতিহাসিক দলিল, ভূমি রেকর্ড এবং আদালতের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে প্রকৃত মালিক বা বৈধ উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ ভূমি দখল, জাল দলিল ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।দশম দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মামলা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা এবং আইনানুগ মুক্তির দাবি জানানো হয়।বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ সনাতনী সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মামলার ন্যায়সংগত পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।আয়োজকরা বলেন, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেবল শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত মতপ্রকাশ কিংবা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে মামলা হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই, তাদের দ্রুত আইনানুগ মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নভেম্বর মাসজুড়ে ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠানো এবং ৫ নভেম্বর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।এরপর আগামী ১৩ নভেম্বর দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, শপথ গ্রহণ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।এ ছাড়া আগামী ২০ নভেম্বর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে দেশব্যাপী অনশনসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তুলে ধরেন মাহাথির মোহাম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসান সুরেশ্বরী নুরী দিপু। আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন চিশতী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিনিধি ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম মিয়া, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রতন কাফী, আল্লামা হানিফ নুরী, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির (বিএসপি) ধর্মযাজক প্রণবানন্দ মহারাজ, সন্তোষ চন্দ্র দাস, টনি মল্লিক ও প্রসেনজিৎ বকশীসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা আরও বলেন, ‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’ কোনো ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। বরং ধর্মীয় উগ্রবাদ, মব সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বৈষম্য, নারী নির্যাতন, সাংস্কৃতিক দমন-পীড়ন এবং সব ধরনের আইনবহির্ভূত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।তারা মনে করেন, রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস বা সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।সংবাদ সম্মেলন থেকে ধর্ম-বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী ও মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের সব গণতন্ত্রকামী, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।আয়োজকদের প্রত্যাশা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম, বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাপস দেবনাথ (৩০) নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হেফুজ মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে বিটঘর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাপস দেবনাথের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান অভিযুক্ত হেফুজ মিয়া। এতে তাপসের মাথায় দুটি স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে মাথার ক্ষতস্থানে দশটির বেশি সেলাই দিতে হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।পরিবারের দাবি, এ হামলার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা। প্রায় তিন মাস আগে অভিযুক্ত হেফুজ মিয়া তাপস দেবনাথের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু পরিবারটি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।শুধু তাপস দেবনাথের পরিবারই নয়, বিটঘর গ্রামের অন্যান্য হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারের কাছ থেকেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিনিধিদের অবহিত করেন। পরে তাঁদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির একটি সামাজিক সমাধান হয় বলে জানা যায়। এরপর অভিযুক্ত হেফুজ মিয়া কিছুদিন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।তবে সম্প্রতি তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে চাঁদা দাবি শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের অবহিত করা হলে তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগকারীদের দাবি।ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অভিযোগ, হুমকি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনার ঘটনা বিটঘর গ্রামের অনেক বাসিন্দারই জানা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে তাপস দেবনাথের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ