চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় একটি গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে এবং আরেকটি গরু জীবন্ত দগ্ধ হয়েছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্ব ডাবুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামদয়াল মাঝির বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা হলেন নারায়ণ দে ও বিজয় চৌধুরী।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রাহাতুল ইসলাম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক অং চিং মারমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাবুয়া তারাচরণ সেমাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক কামাল মিয়া এবং ডাবুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইয়াছমিন আক্তার।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ঘটনাস্থলে যান রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু দে, সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পা কুমার দাশ, রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী মিঠু, রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ সংগঠনের পৌরসভা কমিটির সভাপতি ডা. লিটন শর্মা, কার্যনির্বাহী সদস্য ত্রিপাল চৌধুরী ও শংকর দেসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির হাতে সহায়তা হিসেবে ব্যাংক চেক, নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও ঢেউটিন প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পরিবার দুটির পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর হারিয়ে পরিবার দুটি বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, অর্থসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারিয়ে তারা সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘব এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত