রাজধানীর মিরপুরে শ্রীমতী রীতা রাণী নামের এক হিন্দু নারীর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের এক কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীরা তাঁর নিজ বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এই নারকীয় তাণ্ডব চালায়। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটা এই পাশবিক নির্যাতনের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের মিরপুর থানা আহ্বায়ক ফিরোজ। দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র রাজধানীতে একজন সংখ্যালঘু নারীর ওপর এমন নৃশংস আক্রমণ সনাতনী সমাজ তথা পুরো মানবজাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে চলা এই নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ঘটনার বিচার চাইতে গেলে উল্টো প্রশাসনের দায়িত্বহীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। অভিযোগ উঠেছে, এই পৈশাচিক ঘটনার প্রতিকার চাইতে গেলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে বলেন যে, এমন সুন্দরীর সৌন্দর্যই তার কাল হয়েছে এবং বর্খা পরলে এমন পরিস্থিতি হতো না। অর্থাৎ স্বাধীন রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের বেঁচে থাকতে হলে এখন বোরখা পরে চলার মতো চরম অবমাননাকর পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে—এমনটাই যেন বার্তা দিচ্ছে প্রশাসন।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
রাষ্ট্রের এই চরম আইনহীনতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে সচেতন মহল। সনাতনী অধিকার রক্ষা এবং সকল নাগরিকের সমান মানবাধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই বর্বরোচিত ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফিরোজসহ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংখ্যালঘুদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি করা হয়।
মতামত