বাংলাদেশের দুর্গাপূজার আয়োজন ও প্রতিমার প্রশংসা করেছেন ভারতের টেলিভিশন উপস্থাপক ও সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পুজো এবার চমকে দেওয়ার মতো। সাবাশ বাংলাদেশ!’
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশের দুর্গাপূজা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার কথা তুলে ধরেন ময়ূখ রঞ্জন। গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
পোস্টে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোর প্রশংসা করে ময়ূখ রঞ্জন লেখেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে চট্টগ্রামের আয়োজন। কলকাতার বিভিন্ন পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার প্রতি চট্টগ্রামের পূজাগুলোর জন্য পুরস্কার রাখার আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর মতে, সম্ভব হলে কুরিয়ারের মাধ্যমে এসব পূজামণ্ডপকে সম্মাননা পাঠানো উচিত।
চট্টগ্রামের দুটি পূজামণ্ডপের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ষোড়শীকুঞ্জ সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ (কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম) এবং উত্তর কাট্টলী তালুকদার বাড়ি (বাণী মন্দির) প্রাঙ্গণের আয়োজন তাঁর চোখে সমানভাবে সেরা। এরপর খলিফাপট্টি ও ব্রজধাম স্মৃতি সংসদসহ অন্যান্য পূজার কথা উল্লেখ করেন তিনি। যেসব আয়োজন তাঁর চোখ এড়িয়ে গেছে, সেগুলোর তথ্য জানাতেও অনুরোধ করেছেন, যাতে পরেরবার সেগুলো নিয়ে আগে থেকেই প্রচার করতে পারেন।
‘কোনো এক বছর পায়ে হেঁটে প্যান্ডেল ঘুরব’
এ বছর ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের অনেক প্রতিমা দেখেছেন বলে জানিয়েছেন ময়ূখ রঞ্জন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এসে সরাসরি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো এক বছর পায়ে হেঁটে প্যান্ডেল ঘুরবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পূজামণ্ডপে ফুচকা পাওয়া যায় কি না, তা জানতে চেয়েছেন। ফুচকার পাশাপাশি ক্লান্ত হলে মসলা কোলা খাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের পূজার খাবার নিয়ে তাঁর এই কৌতূহল পোস্টে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
ময়মনসিংহের সিঁদুরখেলার মিছিলেও মুগ্ধ
ময়মনসিংহের দুর্গাবাড়ি রোডে সিঁদুরখেলার মিছিলের প্রশংসাও করেছেন ময়ূখ রঞ্জন। তাঁর ভাষ্য, ওই মিছিল দেখে তাঁর নিজেরও সেখানে চলে যেতে ইচ্ছা হয়েছিল।
দেবের ‘ভজগৌরাঙ্গের নাম রে’ গানের তালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নাচের দৃশ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি। আগামীবারের আয়োজনে অভিনেতা দেবকে সরাসরি যুক্ত করার চেষ্টা করার পরামর্শও দিয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খানকে সঙ্গে রাখার প্রস্তাব দিয়ে লিখেছেন, এতে আয়োজন আরও জমে উঠবে।
কুমিল্লার রথযাত্রা ও পূজার প্রশংসা
কুমিল্লার রথযাত্রার আয়োজনেরও প্রশংসা করেছেন ময়ূখ রঞ্জন। তাঁর ভাষায়, কুমিল্লার রথের উৎসব ছিল অভূতপূর্ব। তবে কুমিল্লা ও সিলেটে থিমভিত্তিক পূজার আয়োজন তাঁর চোখে পড়েনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের আয়োজন কারও নজরে এলে তাঁকে ট্যাগ করার অনুরোধও জানিয়েছেন।
বরুড়ায় দুর্গাপূজা ফিরে আসায় আনন্দ
পোস্টের শেষাংশে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার একটি গ্রামের দুর্গাপূজা নতুন করে শুরু হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন ময়ূখ রঞ্জন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামটিতে একসময় জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা হতো। দীর্ঘ বিরতির পর সেখানে আবার পূজার আয়োজন হওয়াকে তিনি আনন্দের খবর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জমি ছেড়ো না। নিজের শিকড় বদলাতে দিয়ো না!’
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্গাপূজা, প্রতিমা, সিঁদুরখেলা ও রথযাত্রার আয়োজন নিয়ে ময়ূখ রঞ্জনের এই পোস্টে তাঁর ব্যক্তিগত মুগ্ধতার পাশাপাশি ঐতিহ্য ধরে রাখার বার্তাও উঠে এসেছে
মতামত