নীলফামালীর ডোমারে শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নীলাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাইয়ের করা মামলায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শ্যামল শর্মা হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা মধ্যপাড়া গ্রামের শুসেন শীলের ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই কৃষ্ণ শর্মা বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শালমারা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪০) এবং রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (২৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগম নামে ওই নারীকে নীলাহাটি গ্রামে নিয়ে আসেন শ্যামল শর্মাসহ কয়েকজন। পরে সোমবার রাতে তাঁরা ওই নারীকে নীলাহাটি বাঁশবাগানের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান।
সেখানে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্যামল শর্মাকে গাছের ডাল দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
শ্যামলের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তাঁরা আব্দুর রশিদ ও শাহনাজ বেগমকে আটক করেন। পরে আহত শ্যামল শর্মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শ্যামল শর্মাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য নারীকে এনে যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজনকে মারধর করা হয়। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান।’
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই নারীসহ দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মতামত