৩০ লক্ষ প্রদীপের দ্যুতিতে অযোধ্যায় দীপাবলি উৎসব
সনাতনী ঐতিহ্য, সত্য ও ধর্মের আধার হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত উত্তর প্রদেশের পবিত্র অযোধ্যা ধামে পরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধ্যাত্মিক আবেগ ও মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘দীপাবলি উৎসব-২০২৬’। চৌদ্দ বছরের বনবাস শেষে রাবণ বধ করে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র, মাতা সীতা ও ভ্রাতা লক্ষ্মণের নিজ জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তনের অমর স্মৃতিকে ধারণ করে এ দিন আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয় পুরো রামনগরীকে। পবিত্র সরযূ নদীর তীরবর্তী রাম কি পৈড়িতে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের মাননীয় উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণণ এবং উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল শ্রীমতী আনন্দীবেন প্যাটেল।সকালের শুরুতেই সাকেত কলেজ থেকে বের হয় এক মনোরম ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে সনাতনী সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে রামায়ণের সাতটি কাণ্ডের বিভিন্ন অমর গাথা ফুটিয়ে তোলা হয়। হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে এই মনোমুগ্ধকর শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল রামকথা পার্কের বিশেষ অনুষ্ঠান, যেখানে পরম ভক্তিভরে ভগবান শ্রীরাম, মাতা সীতা ও ভ্রাতা লক্ষ্মণের প্রতিকী রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন করা হয়। এ সময় ভারতের উপরাষ্ট্রপতি তিলক পরিয়ে এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুষ্পমাল্য অর্পণ করে পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীদ্বয় স্বহস্তে প্রভু শ্রীরামের রথ টেনে ভক্তিময় এক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'উৎসবের সার্বিক পরিবেশে আধুনিকতার চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটায় ১২ ফুট উঁচু ৫০টি বিশেষ ডিজিটাল স্তম্ভ, যার মাধ্যমে পবিত্র রামায়ণের নানা চিত্র আলোকোজ্জ্বলভাবে প্রদর্শিত হয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সনাতনীদের জন্য এ উৎসব কেবল আলোকসজ্জা নয়, বরং অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর, অসত্যের ওপর সত্যের এবং অশুভ শক্তির ওপর শুভশক্তির চিরন্তন বিজয়ের প্রতীক। অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যে, নীতি ও উদ্দেশ্যে সততা থাকলে বিশ্বসংসারের কোনো শক্তিই ‘ধর্মের জয়’ ও ‘সত্যের জয়’-এর ধারাকে রুদ্ধ করতে পারে না। তিনি উপস্থিত সাধু-সন্ত ও সর্বস্তরের ভক্তদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে রামচন্দ্রের আদর্শে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।লক্ষ লক্ষ ভক্তের উপস্থিতিতে এবং ২,৫০০-রও বেশি নিরাপত্তাকর্মীর সুদৃঢ় নজরদারিতে পুরো আয়োজনটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। সরযূ নদীর ঘাটে একসাথে জ্বলে ওঠা রেকর্ড ৩০ লক্ষ প্রদীপ এবং পবিত্র রামমন্দির প্রাঙ্গণে এক লক্ষ প্রদীপের স্বর্গীয় আলোয় যেন ফুটে ওঠে বিশ্বের সকল সনাতনী ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার ও আত্মিক মুক্তির সুমহান প্রত্যয়। অনুষ্ঠান শেষে 'সিয়াবর রামচন্দ্র ভগবানের জয়' ধ্বনিতে সমবেত কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে ওঠে পবিত্র অযোধ্যা ধামের আকাশ- বাতাস।