শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
Topic Ads 1
তিরুপতি মন্দিরের থিমে পদ্মাপাড়ে হয়েছিল দুর্গাপুজো, নোয়াখালিতে এবছর কী থিম জানেন?

তিরুপতি মন্দিরের থিমে পদ্মাপাড়ে হয়েছিল দুর্গাপুজো, নোয়াখালিতে এবছর কী থিম জানেন?

প্রায় তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য বহন করে চলেছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুরের কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। প্রতিবছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। গত বছর ভারতের বিখ্যাত তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল। এবার ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সাজানো হচ্ছে মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার।আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরই কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের পূজায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়। ২০২৫ সালের দুর্গোৎসবে তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এবার মূল প্রবেশদ্বারকে কেন্দ্র করে বিশেষ সাজসজ্জার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পূজার কয়েকটি দিন মন্দির প্রাঙ্গণকে উৎসবমুখর করে তুলতে আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।স্থানীয়দের কাছে কল্যান্দীর দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির এলাকা মিলনমেলায় পরিণত হয়।মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে ‘দুর্গাসংঘ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দুর্গাপূজার পাশাপাশি মন্দিরে আয়োজিত অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রচলিত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বছর আগে তৎকালীন রাজা রামেন্দ্র রায়চৌধুরী প্রায় এক একর জায়গার ওপর মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বংশধর এবং দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের মানুষের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় মন্দিরটি ধীরে ধীরে বর্তমান রূপ লাভ করে।স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, পূজার্চনার জন্য রাজা রামেন্দ্র রায়চৌধুরী গ্রামের দক্ষিণ দিকের একটি চর এলাকা থেকে ব্রাহ্মণদের এখানে নিয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের বংশধররা বংশপরম্পরায় মন্দিরে পূজা-অর্চনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।প্রথমদিকে এখানে ঘটপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতো বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সময়ের সঙ্গে প্রতিমা নির্মাণ করে দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়। একসময় স্থায়ী মন্দির না থাকলেও পরবর্তী সময়ে এখানে বৃহৎ স্থায়ী মন্দির নির্মিত হয়েছে।মন্দিরের ভেতরে মা দুর্গার বিগ্রহ সারা বছর লোহার ফটকের ভেতরে সংরক্ষিত থাকে। সামনে রয়েছে দানবাক্স। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেখানে অনুদান দিতে পারেন। এই অর্থ মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।বর্তমানে মন্দিরে দুজন স্থায়ী এবং একজন অস্থায়ী ব্রাহ্মণ পূজা-অর্চনার দায়িত্ব পালন করেন। দুর্গাপূজার সময় আরও দুজন ব্রাহ্মণ যুক্ত হন এবং উৎসবের প্রধান পূজারীর দায়িত্ব পালন করেন।মূল দুর্গামন্দির ছাড়াও পুরো মন্দির প্রাঙ্গণজুড়ে রয়েছে একাধিক ধর্মীয় স্থাপনা। রয়েছে শিবমন্দির, মা শীতলা দেবীর মন্দির, শ্রাদ্ধবাসর, সর্বমন্দির পরিক্রমা, রাধাগোবিন্দের মন্দির এবং শানবাঁধানো পুকুর। বিভিন্ন মন্দিরে দেবদেবীর বিগ্রহ রয়েছে।রাস্তা থেকে মূল মন্দিরে প্রবেশের পথে কৃষ্ণ-বলরামের বিগ্রহ দিয়ে সজ্জিত একটি দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথও রয়েছে। প্রবেশপথের বাম দিকে মা শীতলা দেবীর মন্দির এবং ডান দিকে শ্রাদ্ধবাসর ও শিবমন্দির। এরপর রয়েছে শানবাঁধানো পুকুর এবং মন্দির প্রাঙ্গণের অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা।ঢাকা-নোয়াখালী সড়কের পাশে এবং কল্যান্দী হাই স্কুল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই মন্দির। দুর্গাপূজার সময় দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম কল্যান্দী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গত বছরের তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে সাজসজ্জার পর এবার বিশেষভাবে সাজানো মূল প্রবেশদ্বার দর্শনার্থীদের কাছে কতটা আকর্ষণ তৈরি করে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।