চারপাশে আতঙ্ক আর স্লোগানের গর্জন, মায়ের বুকে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিই যেন পৃথিবীর একমাত্র শান্তির নীড়
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিক আন্দোলনের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে মায়ের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটার একটি দৃশ্য নিয়ে সংবাদটি নিচে পেশ করা হলো। এতে কোনো পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়নি এবং নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট লাইন ও শিরোনাম সংযুক্ত করা হয়েছে।উত্তপ্ত মহাসড়কে মায়ের বুকে এক টুকরা নীড়, ভাইরাল ছবিতে মুগ্ধ নেটিজেনরা। তুমি নরম ফুলের গান, তুমি গরম ভাতের ভাঁপ, তুমি অভিমানের চুপ, তুমি কান্না জমা মুখ। আমি তোমার ছায়ায় ছায়ায় থাকি, মা। আমি তোমার চোখের তারায় বাঁচি, মা। মাকে নিয়ে গানের এই কথাগুলো যেন নতুন করে অর্থ খুঁজে পেয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের একটি দৃশ্যে। একদিকে উত্তপ্ত মহাসড়ক, অন্যদিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, সংঘাত আর আতঙ্ক। এর মধ্যেই নিজের ছোট্ট সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন এক মা। মায়ের কাঁধে স্কুলব্যাগ, কোলে সন্তান। সন্তানের মাথায় মমতার হাত রেখে যেন সব বিপদ থেকে তাকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা। গত সোমবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধারণ করা এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। শ্রমিক আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মায়ের এই ছুটে চলা যেন সব কোলাহল ছাপিয়ে মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে।News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। বিশেষ করে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোথাও মহাসড়ক অবরোধ, কোথাও বিক্ষোভ, আবার কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতেই সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই নারী। মহাসড়কের এক পাশে শ্রমিকদের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন। চারপাশে যখন উত্তেজনা, তখন নিজের সন্তানকে আগলে রেখে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন মা। ছবিতে দেখা যায়, শিশুটি মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে আছে। আর মা এক হাতে সন্তানের মাথা আগলে রেখেছেন, অন্য হাতে শক্ত করে ধরে আছেন তাকে। মায়ের পরনে কমলা-লাল শাড়ি, পিঠে বেগুনি রঙের স্কুলব্যাগ। এই সাধারণ দৃশ্যের মধ্যেই যেন অসাধারণ এক ভালোবাসার গল্প লুকিয়ে আছে।প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, একজন মায়ের নিশ্চিন্তে ঘরে ফেরার অধিকার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ প্রতিটি সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। সংঘাত বা আন্দোলন যাই হোক না কেন, কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি হওয়ার উপক্রম না হয় এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পৃথিবীর সব পথ যখন অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তখন সন্তানের কাছে মায়ের বুকই হয়ে ওঠে সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা। আর মায়ের কাছে সন্তানের হাসিমুখের চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই।