ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নে এবার ছয়টি নয়, সাতটি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা। দীর্ঘ ১৮ বছরের পূজার ঐতিহ্যে এবার নতুন করে একটি মন্দির যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন মন্দিরে প্রথমবারের মতো পূজার আয়োজনকে ঘিরে হোগলাকান্দি গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রথমবারের মতো হোগলাকান্দি দুর্গাপূজা মন্দিরে কাত্যায়নী পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। নতুন এই সংযোজনের মধ্য দিয়ে কানাইপুর ইউনিয়নে পূজার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, কানাইপুরে কাত্যায়নী পূজা উদযাপনের ১৮ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। এবার মাত্র ৪ থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে সাতটি পূজামণ্ডপে একযোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফরিদপুর জেলার মধ্যে এমন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাতটি মণ্ডপে কাত্যায়নী পূজার আয়োজন একটি ব্যতিক্রমী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এবারের কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হবে ইব্রাহিমদী শ্মশান (উত্তরপাড়া), কানাইপুর সাহাপাড়া, কানাইপুর পূর্বপাড়া, হোগলাকান্দি সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দির, মালাঙ্গা বোস বাড়ি, ভাটি কানাইপুর পূর্বপাড়া এবং ভাটি কানাইপুর পশ্চিমপাড়া মন্দিরে।
পূজাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সাতটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জার কাজ চলছে। পূজার দিনগুলোতে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি ফরিদপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিজয়া দশমীর পরও মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কয়েক দিন ধরে উৎসবের আমেজ অব্যাহত থাকে।
পূজার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৬ নভেম্বর মহাসপ্তমী, ১৭ নভেম্বর মহাঅষ্টমী, ১৮ নভেম্বর মহানবমী এবং ১৯ নভেম্বর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী পূজার সমাপ্তি ঘটবে।
কানাইপুর ইউনিয়নের সাতটি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা দেখতে ফরিদপুরসহ আশপাশের এলাকার সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্থানীয় আয়োজকরা। নতুন মন্দিরের সংযোজন এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ঘিরে এবারের পূজা আরও আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত