শিপা রানীর মৃত্যুতে গুজব ও অপপ্রচারে ইসকনের বিবৃতি
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটপাড়া এলাকার শিপা রানী ঘোষের মর্মান্তিক মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনায় সমাজে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ইসকন বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, শিপা রানীর আত্মহত্যাজনিত এই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অসাধু মহল থেকে নানা ধরনের অনুমানভিত্তিক বক্তব্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং গুজব সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানা মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, যার অধিকাংশেরই নিরপেক্ষ ও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সত্যতা যাচাই না করেই মনগড়া অভিযোগ উত্থাপন করা এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়বদ্ধ করার চেষ্টা অত্যন্ত হতাশাজনক যা কেবল সামাজিক অস্থিরতা ও ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি করতেই ভূমিকা রাখে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমাজ ও গণমাধ্যমে নিজস্ব অনুমানকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা উসকানিমূলক মতামত ব্যক্ত করা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। ইসকন বাংলাদেশ দেশের প্রচলিত আইনের শাসন, সঠিক বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো অপরাধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হয়, তবে প্রকৃত অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।এর পাশাপাশি সংগঠনটি অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছে যে, অশুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, দেশে সামাজিক ও সম্প্রদায়গত উত্তেজনা তৈরি করা এবং বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বানে ইসকন জানিয়েছে, যেকোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে অত্যন্ত ধৈর্য, সংযম এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য, অডিও, ভিডিও কিংবা ছবি শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা, মনগড়া মন্তব্য না করা এবং কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অযাচিত ও প্রমাণহীন বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমে না ছড়িয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর আহ্বান করা হয়েছে। মানুষের জীবনহানির এই ট্র্যাজেডিতে অহেতুক উত্তেজনা না ছড়িয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তে সর্বাত্মক সহায়তা করাই এখন সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজের প্রধান কর্তব্য।