ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের চার জেলা—চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। অপর একজনের মৃত্যু নিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে এক পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮)। তিনি উপজেলার নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রের (ভোটকেন্দ্র নং–৫১) দায়িত্বে ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে সহকর্মীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
খুলনায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সময় এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম মহিবুজ্জামান কচি (৫৫)। তিনি খুলনা নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। তার বাড়ি নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে। বিএনপির দাবি, এক জামায়াত নেতা ধাক্কা দেওয়ায় গাছের সঙ্গে লেগে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, উত্তেজনার মধ্যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। খুলনা সদর থানার এসআই খান ফয়সাল রাফি জানান, সকালে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের অদূরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। সেখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম বাবু মিয়া (৬৫)। তিনি মহাদেবপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রের সামনে ভোটার স্লিপ নেওয়ার পর ভেতরে প্রবেশের সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে রাজু মিয়া বলেন, বাবা ভোট দিতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান।
চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়ি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম মো. মনু মিয়া (৬২)। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তিনি হঠাৎ পড়ে যান। পরে তাকে বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
মতামত