ডিগ্রি অর্জনের শেষ নেই, যোগ্যতা অনুযায়ী একাধিক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে ঝুলিতে, তাও ভাগ্যে জোটেনি কাঙ্ক্ষিত সরকারি চাকরি। যেখানে একটি সম্মানজনক চাকরির মাধ্যমে মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান নির্ধারিত হয়, সেখানে শত চেষ্টা করেও ভাইভা টেবিল থেকে বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। কথা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির সুপরিচিত ও নিপুণ মৃৎশিল্পী চঞ্চল পালকে নিয়ে। আর্থিক অনটন সত্ত্বেও সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে দেখার যে স্বপ্ন নরেন পাল দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নপূরণে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন চঞ্চল। জলপাইগুড়ির আনন্দচন্দ্র কলেজ অফ কমার্স থেকে অ্যাকাউন্টেন্সিতে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে বি.কম এবং পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে এম.কম পাস করেন তিনি। পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে ফের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্টাফ সিলেকশন কমিশন, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং ব্যাঙ্কিং সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মতো বহু প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। একাধিকবার লিখিত পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে উত্তীর্ণ হলেও অদৃশ্য কোনো কারণে ভাইভা পার হতে পারেননি (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')। পরবর্তীতে পরিবার চালাতে সামান্য বেতনে চাটার্ড ফার্ম ও বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও সংসারের অনটন ঘোরেনি। অগত্যা বাবার মৃৎশিল্পের পেশাতেই তাকে হাত পাকাতে হয়। ২০১৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিমা গড়াই তার মূল পেশা হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সেও জলপাইগুড়ি শহরের ভাটিয়া বিল্ডিং এলাকায় নিজের কারখানায় একা হাতে নিপুণ দক্ষতায় দুর্গাপ্রতিমা গড়ে তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি বেরুবাড়িতে একটি টিউটোরিয়াল হোমে ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে নিজের বিদ্যাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। যোগ্য মেধা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সম্মান না পাওয়া এবং বাবার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার আক্ষেপ আজ জীবনের অন্যতম বড় বিষাদ হয়ে রয়ে গেছে চঞ্চলের মনে।
মতামত