শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

রংপুরে ৪ হত্যা: নেপথ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংখ্যালঘু নির্যাতন, তবে এরাই কি মাস্টারমাইন্ড?


| প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরে ৪ হত্যা: নেপথ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংখ্যালঘু নির্যাতন, তবে এরাই কি মাস্টারমাইন্ড?
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পুরো পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ আগস্টের এই চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত নানা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাষ্য সামনে আসার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২২ আগস্ট থেকে উদঘাটিত বিভিন্ন তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই সমালোচনার আড়ালে মূলত ঢাকা পড়ে যাচ্ছে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এক রহস্যময় গৃহশিক্ষিকা এবং একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের নাম। স্থানীয় শাসকদল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা এসব সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত চালাতে প্রশাসন ও সরকার ক্রমাগত গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৫০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বুলা (৫০), স্নাতকোত্তর পড়ুয়া কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৬) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পুত্র আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে রহস্যময় গৃহশিক্ষিকা ইভা রহমানের কাছে। চক্রবর্তীদের প্রতিবেশী প্রিয়মের গৃহশিক্ষিকা হিসেবে ইভা নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং প্রীতিলতার সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে রংপুরের গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর মাধ্যমে ইভা রহমানের সঙ্গে রংপুর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদের পরিচয় হয়, যা শেষ পর্যন্ত এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে রূপ নেয়। কমিশনার মাবুদকে একাধিকবার ইভার সঙ্গে গণপতির বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ঘটনার পরপরই গত ২২ আগস্ট থেকে ‘ইভা ভাবি’ নামে পরিচিত এই নারী রহস্যজনকভাবে আত্মগোপন করেছেন। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী মেরিল সুমনও গা ঢাকা দিয়েছে।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​(News copied from- ' হিন্দুস নিউজ ')

​এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সংখ্যালঘু সনাতনী পরিবারের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন ও চরম যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত নির্বাচনে স্থানীয় সনাতনীরা শাসকদল বিএনপিকে সমর্থন করেছে—এমন দোহাই দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সাংসদ মাহবুবুর রহমানের ব্যাংকার পুত্র আশফাক সিফাতের প্ররোচনায় সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন গ্যাং’ গণপতির কন্যা আগামী চক্রবর্তীকে প্রতিনিয়ত হুমকি ও যৌন হয়রানি করে আসছিল। আগামী তাঁর সুরক্ষার জন্য থানায় জিডি করার চিন্তাভাবনা করছিলেন। এছাড়া জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ এবং পেনশন ফান্ড থেকে টাকা তোলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা ও রংপুর Metropolitan বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামুর আশকারায় ধীমান ঠাকুর ও তাঁর সন্ত্রাসী ছেলে প্রাণ ভট্টাচার্য পরাণ চক্রবর্তীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। আগামীকে বিয়ে করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা এবং বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার ক্ষোভও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধ ধারণা করা হচ্ছে।

​মানবাধিকার ও সনাতনীদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার অভিজনদের মতে, ক্ষমতাশালী জামায়াত-বিএনপি নেতাদের ‘পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক চাপ’ এবং নিজস্ব অনৈতিক সম্পর্কের কারণে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ বারবার আকুতি জানানো সত্ত্বেও অসহায় হিন্দু পরিবারটিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হন। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের গতিপথ পাল্টে দেওয়ারও অপচেষ্টা চালান সামু। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে মাদকাসক্ত আখ্যা দিয়ে মূল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে আত্মগোপনে থাকা ইভা রহমান, মেরিল সুমন, সাংসদ পুত্র আশফাক, বিএনপি নেতা সামু, ধীমান ঠাকুর এবং প্রাণ ভট্টাচার্য পরাণকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে ভুক্তভোগী সম্প্রদায় ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে।

সোর্স: নর্থইস্ট নিউজ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রংপুরে ৪ হত্যা: নেপথ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংখ্যালঘু নির্যাতন, তবে এরাই কি মাস্টারমাইন্ড?

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পুরো পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ আগস্টের এই চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত নানা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাষ্য সামনে আসার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২২ আগস্ট থেকে উদঘাটিত বিভিন্ন তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই সমালোচনার আড়ালে মূলত ঢাকা পড়ে যাচ্ছে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এক রহস্যময় গৃহশিক্ষিকা এবং একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের নাম। স্থানীয় শাসকদল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা এসব সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত চালাতে প্রশাসন ও সরকার ক্রমাগত গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৫০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বুলা (৫০), স্নাতকোত্তর পড়ুয়া কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৬) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পুত্র আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে রহস্যময় গৃহশিক্ষিকা ইভা রহমানের কাছে। চক্রবর্তীদের প্রতিবেশী প্রিয়মের গৃহশিক্ষিকা হিসেবে ইভা নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং প্রীতিলতার সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে রংপুরের গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর মাধ্যমে ইভা রহমানের সঙ্গে রংপুর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদের পরিচয় হয়, যা শেষ পর্যন্ত এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে রূপ নেয়। কমিশনার মাবুদকে একাধিকবার ইভার সঙ্গে গণপতির বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ঘটনার পরপরই গত ২২ আগস্ট থেকে ‘ইভা ভাবি’ নামে পরিচিত এই নারী রহস্যজনকভাবে আত্মগোপন করেছেন। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী মেরিল সুমনও গা ঢাকা দিয়েছে।

​(News copied from- ' হিন্দুস নিউজ ')

​এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সংখ্যালঘু সনাতনী পরিবারের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন ও চরম যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত নির্বাচনে স্থানীয় সনাতনীরা শাসকদল বিএনপিকে সমর্থন করেছে—এমন দোহাই দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সাংসদ মাহবুবুর রহমানের ব্যাংকার পুত্র আশফাক সিফাতের প্ররোচনায় সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন গ্যাং’ গণপতির কন্যা আগামী চক্রবর্তীকে প্রতিনিয়ত হুমকি ও যৌন হয়রানি করে আসছিল। আগামী তাঁর সুরক্ষার জন্য থানায় জিডি করার চিন্তাভাবনা করছিলেন। এছাড়া জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ এবং পেনশন ফান্ড থেকে টাকা তোলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা ও রংপুর Metropolitan বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামুর আশকারায় ধীমান ঠাকুর ও তাঁর সন্ত্রাসী ছেলে প্রাণ ভট্টাচার্য পরাণ চক্রবর্তীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। আগামীকে বিয়ে করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা এবং বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার ক্ষোভও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধ ধারণা করা হচ্ছে।

​মানবাধিকার ও সনাতনীদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার অভিজনদের মতে, ক্ষমতাশালী জামায়াত-বিএনপি নেতাদের ‘পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক চাপ’ এবং নিজস্ব অনৈতিক সম্পর্কের কারণে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ বারবার আকুতি জানানো সত্ত্বেও অসহায় হিন্দু পরিবারটিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হন। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের গতিপথ পাল্টে দেওয়ারও অপচেষ্টা চালান সামু। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে মাদকাসক্ত আখ্যা দিয়ে মূল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে আত্মগোপনে থাকা ইভা রহমান, মেরিল সুমন, সাংসদ পুত্র আশফাক, বিএনপি নেতা সামু, ধীমান ঠাকুর এবং প্রাণ ভট্টাচার্য পরাণকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে ভুক্তভোগী সম্প্রদায় ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে।

সোর্স: নর্থইস্ট নিউজ


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
রংপুরে ৪ হত্যা: নেপথ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংখ্যালঘু নির্যাতন, তবে এরাই কি মাস্টারমাইন্ড?
0:00 0:00
1.0x