শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আব্দুল্লাহ আল-ফারুক।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে মাধবদী থেকে সন্দেহের তালিকায় থাকা কিশোরীর সৎপিতা আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিশোরীকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এ সময় সৎপিতা আশরাফ আলী জানান, ঘটনার দায় অন্যদের ওপর চাপাতে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরাসহ কয়েকজনকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা গল্প সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানায়, ১০ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ একাধিক আসামি ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাবেক মেম্বারের বিচার কার্যসহ নানা কারণেই সৎ মেয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হওয়ার কথা জানায় আশরাফ আলী। অপমান থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় পরবর্তীতে মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে জনৈক সুমনের বাড়িতে রেখে আসার কথা বলে একটি সরিষা ক্ষেতের ধারে পৌছে একাই গলায় চেপে ধরে ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মেয়েটিকে। এই ঘটনায় নিজেকে বাঁচাতে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নূরাসহ অন্যান্যদের ওপর দায় চাপানোর মিথ্যা নাটক সাজান আশরাফ আলী।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতে মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে নূরাকে প্রধান করে ৯ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।
আলোচিত এই ঘটনায় মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পহেলা মার্চ ৭ আসামিকে ৮ দিনেন রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তারা জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সৎপিতার ওপর নজরদারি শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে আটকের পর মেলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মতামত