বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এ দেশে পাহাড়ি, সমতলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ও সনাতনী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। এসব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে বাঙালির আদ্যিকালীন বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এই মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী দেশে কোনো ধরনের বৈষম্য না রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই নীতির আলোকেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সনাতনী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংহতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান। এছাড়াও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পালসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষায় মন্ত্রীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।
মতামত