সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের বিবেকবান সমাজ মনে করে, অবোধ কন্যাশিশুদের ওপর এই ধরনের পাশবিক নির্যাতন মানবতা ও সভ্যতার বুকে এক চরম চুনকালি, যা রুখতে রাষ্ট্র ও সমাজকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, পল্লবীর এই স্পর্শকাতর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে এবং দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই দিন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়ে দেন, শিশুহত্যার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শেষ করতে আইনের সব ধরনের পথ উন্মুক্ত করা হবে। এই লক্ষে তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজধানী ঢাকার রাজপথ গতকাল সকাল থেকেই ছিল উত্তাল। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর ক্যাম্পাসের ফটকে ‘অভিভাবক ও শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক ও সমাজকর্মীরা। পল্লবীতে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজসহ রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শাহবাগে সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। অন্যদিকে, রাজধানীর নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা ‘শিশুদের বাঁচতে দাও’, ‘শিশু নিপীড়ন বন্ধ করো’ সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে এক ব্যতিক্রমী সংগীত সমাবেশের আয়োজন করে, যা উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়। শোবিজ অঙ্গনের মেগাস্টার শাকিব খানসহ দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদারের মতো মানবাধিকার কর্মীরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
রাজধানীর বাইরেও দেশের প্রতিটি জেলায় এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর ও সাতক্ষীরায় বিভিন্ন সামাজিক ও সর্বজনীন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মানববন্ধনে নিহত শিশুর চাচার অশ্রুসজল কান্না উপস্থিত জনতাকে স্তব্ধ করে দেয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক) এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ৭১টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’ এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এলাকাভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার এবং সকল কন্যাশিশুর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
"HINDUS NEWS" মনে করে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার এবং কন্যাশিশুদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা সনাতন ধর্মের মূল বাণী ও একটি সভ্য রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।
মতামত