ভৌগোলিক দিক থেকেও এই অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘের ইউনেস্কোর তথ্য মতে, কৈলাস-মানস সরোবর অঞ্চল থেকেই এশিয়ার প্রধান চারটি নদী—সিন্ধু, শতদ্রু, ব্রহ্মপুত্র ও কর্ণালীর উৎপত্তি হয়েছে। তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত এই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের জন্য কঠোর ভূরাজনৈতিক বিধিনিষেধ রয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পুণ্যার্থীদের নেপাল হয়ে বিশেষ অনুমতিপত্রের মাধ্যমে অতি দুর্গম পথ অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছাতে হয়। তীব্র ঠান্ডা, অক্সিজেনের স্বল্পতা, আকস্মিক ভূমিধস এবং দীর্ঘ ৫২ কিলোমিটারের 'কোরা' বা পর্বত প্রদক্ষিণের পথ অত্যন্ত কঠিন হলেও, সনাতনী ভক্তি ও বিশ্ব মানবতার আধ্যাত্মিক আকুলতা সব প্রাকৃতিক ও কূটনৈতিক বাধাকে জয় করে চলেছে।
পরমেশ্বর শিবের ধাম কৈলাস: যে টানে ছুটে যান চার ধর্মের মানুষ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত নীল জলরাশির মানস সরোবর এবং তার কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার উঁচু তুষারাবৃত কৈলাস পর্বত বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পরম পবিত্র ও অলৌকিক ধাম। একই সাথে বৌদ্ধ, জৈন ও প্রাচীন তিব্বতি বন ধর্মের অনুসারীদের কাছেও এটি এক অপার আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। সম্প্রতি এই দুর্গম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকজন তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই মহাশূন্যতুল্য পুণ্যভূমি। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্ব মানবজাতির আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার পুণ্যার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই তীর্থপথে পা বাড়ান।
সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত হলো পরমেশ্বর ভগবান শিব ও জগৎজননী দেবী পার্বতীর পবিত্র আবাসস্থল। পাশে অবস্থিত মানস সরোবরের নির্মল জল সনাতনী সংস্কৃতিতে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত, যা পূজার্চনা ও আত্মশুদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হয়। তিব্বতি বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই পর্বতটি 'কাং রিনপোচে' বা 'তুষারের রত্ন' নামে পরিচিত এবং এটিকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। জৈন ধর্মাবলম্বীদের মতে, তাদের প্রথম তীর্থঙ্কর ভগবান ঋষভদেব এই কৈলাসেই পরম নির্বাণ লাভ করেছিলেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') তিব্বতের প্রাচীন বন ধর্মের অনুসারীদের কাছেও এটি এক পরম প্রার্থনার স্থান। চার ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান ও পথ আলাদা হলেও, পরম সত্তার প্রতি ভক্তি ও আত্মিক মুক্তির জায়গায় এই স্থানটি বিশ্ব মানবজাতির এক অভূতপূর্ব ধর্মীয় সহাবস্থানের নিদর্শন গড়ে তুলেছে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত