চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রী শ্রী পুণ্ডরীক ধাম বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং বৈষ্ণব ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক অনুপম ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। বৈষ্ণব ধর্মীয় গ্রন্থ চৈতন্য চরিতামৃত অনুযায়ী, এই ধামের প্রতিষ্ঠাতা ও নামপ্রদানকারী পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অত্যন্ত প্রিয় ভক্ত এবং বৈষ্ণব বিশ্বাসে শ্রীমতী রাধারানীর পিতা বৃষভানু মহারাজের অবতার। আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের দিক থেকে ভক্তরা এই পবিত্র স্থানটিকে বৃন্দাবনের বার্ষাণার সঙ্গেই তুলনা করে থাকেন। প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ধাম প্রাঙ্গণে রয়েছে পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ঠাকুরের ভজনকুটির, বিশাল নাটমন্দির, রাধাকুণ্ড, শ্যামকুণ্ড, গিরি গোবর্ধন, সর্বতীর্থ পরিক্রমা মন্দির এবং সংকীর্তন মঞ্চ। মন্দিরের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, চারপাশের স্নিগ্ধ সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত পরিবেশ দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসা তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের মনে গভীর শান্তি ও আধ্যাত্মিক আমেজ এনে দেয়। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'
প্রতিবছর গৌরপূর্ণিমা, চন্দনযাত্রা, শ্রীপঞ্চমী ও রাধাষ্টমীসহ বিভিন্ন বড় উৎসবে এই ধামে লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে, যা সকল জাতির মানুষের মানবাধিকার, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সনাতনীদের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষার বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় বহনকারী এই পুণ্ডরীক ধাম আজ কেবল স্থানীয় গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সনাতন ধর্মের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
মতামত