বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় ১৯ বছর বয়সী হিন্দু গৃহবধূ ঐশী পোদ্দারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ ঐশীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঐশী পোদ্দারের বিয়ের পর থেকেই তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে ঐশীর ওপর চাপ ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে ঐশীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় যৌতুকের দাবিতে ঐশীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতের মৃত্যুর সঙ্গে যৌতুকের দাবির কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুর আগে ঐশীর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং তার মৃত্যুর পেছনে কারও দায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মাত্র তিন মাসের দাম্পত্য জীবনের পর ঐশীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে পুলিশের তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারিত হবে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মতামত