বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার কক্ষে গিয়ে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর তাঁর পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন এক শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে। এ সময় অধ্যক্ষও শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো উল্লেখ করে তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানান।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার কক্ষে যান। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁদের অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার কাছে গিয়ে আগের দিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইছেন। ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, “গতকালের বিষয়ের জন্য আমরা সবাই অনেক উত্তেজিত ছিলাম, আমরা নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারিনি। আপনি আমাদের পিতার মতো, সব আন্দোলনকারীর পক্ষ থেকে আমি আপনার কাছে মাফ চাচ্ছি।”
একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জবাবে অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহা শিক্ষার্থীদের প্রতি স্নেহ ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে বলেন, “তোমরা সবাই আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তান তোমাদের চেয়ে অন্তত ৫-৬ বছরের বড়। সন্তান অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছে ভুল-ভ্রান্তি করে ফেলে, তোমাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, ক্লাস করো।”
অধ্যক্ষের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর অভিভাবকসুলভ মনোভাবের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি তাঁদের ক্ষমা করে দিয়ে নিয়মিত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, প্রফেসর তপন কুমার সাহা বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে কখনো কোনো ধরনের অভিযোগ ওঠার কথা শোনা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে একদিকে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষার্থীদের আচরণ, অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে ক্ষমা প্রার্থনার দৃশ্য উঠে এসেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
মতামত