হিন্দুস নিউজ

মীরসরাইয়ে গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মুখরিত বিহার প্রাঙ্গণ



মীরসরাইয়ে গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মুখরিত বিহার প্রাঙ্গণ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
ছবি:হিন্দুস্ নিউজ,মীরসরাই প্রতিনিধি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ, বুদ্ধের অহিংসা ও মৈত্রীর বাণী এবং মানবকল্যাণের প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে চলছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ও মহাপুণ্যময় ধর্মীয় আয়োজন ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব ২০২৬। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বুদ্ধপূজা, সংঘদান, ধর্মদেশনা ও পুণ্যদানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে দিনব্যাপী এই ধর্মীয় মহোৎসব।

ভক্তদের একাংশ


সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন গোপীনাথপুর  এলাকায় অবস্থিত গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে এই মহাপুণ্যময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, উপাসক-উপাসিকা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পুণ্যার্থীরা।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।


অনুষ্ঠানস্থল থেকে Hindus News-এর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারকে কেন্দ্র করে চলছে দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। পুণ্যার্থীদের অংশগ্রহণে বিহার প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে ধর্মীয় মিলনস্থলে।

সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর মঙ্গল শোভাযাত্রা, প্রয়াত ধর্মীয় গুরুদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, ভিক্ষুসংঘকে দান, ধর্মদেশনা, সংঘদান ও চীবর দান।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কঠিন চীবর দান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহাপুণ্যময় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বৌদ্ধ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বর্ষাবাস সমাপ্তির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিক্ষুসংঘকে চীবর দান করা হয়। এই দানকে বৌদ্ধ ধর্মে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পুণ্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুসারে, কঠিন চীবর দানের প্রথা প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। বর্ষাবাস পালনকারী ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে চীবর দানের মাধ্যমে উপাসক-উপাসিকারা ধর্মীয় পুণ্য অর্জনের সুযোগ পান। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দানশীলতা, ত্যাগ, সংযম, শুদ্ধাচার ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।

বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের মূলনীতি অহিংসা, মৈত্রী, করুণা ও প্রজ্ঞার চর্চা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কঠিন চীবর দান উৎসব সেই ধর্মীয় আদর্শগুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।


এবারের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা ও ধর্মদেশনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের বিশিষ্ট ভিক্ষু ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভদন্ত সুনীতানন্দকার ভিক্ষু, সারথীশ্রী ভদন্ত প্রিয়নন্দ মহাথের, ভদন্ত জ্ঞানানন্দকার মহাথের, ভদন্ত শাসনবংশ মহাথের এবং ভদন্ত নেভাল মহাথেরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরার কর্মসূচি রয়েছে। ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দানসামগ্রী প্রদান এবং প্রয়াত ধর্মীয় গুরুদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনও রাখা হয়েছে।

এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে চীবর দান। বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের মধ্যে ধর্মীয় শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পুণ্যচর্চার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। দানের মাধ্যমে লোভ ও আসক্তি পরিহার এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের শিক্ষাও দেওয়া হয়।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান সংরক্ষণ করে আসছেন। কঠিন চীবর দান উৎসব সেই ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

চট্টগ্রামের মীরসরাই অঞ্চলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিহার ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, ধর্মীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারের কঠিন চীবর দান উৎসব এবার ৩৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এই ধারাবাহিকতা স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐক্য, সংগঠিত প্রচেষ্টা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

উৎসবের আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রবরবংশ ভিক্ষু, সভাপতি বাবু প্রশান্ত কান্তি বড়ুয়া এবং সম্পাদক বাবু অভিজিৎ বড়ুয়া। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়, বিহার পরিচালনা কমিটি ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এই ধর্মীয় মহোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ভিক্ষুসংঘ ও পুণ্যার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনার পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও মানবিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী ও করুণা প্রদর্শন করা। মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ ও বিভেদ দূর করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের যে আদর্শ গৌতম বুদ্ধ প্রচার করেছিলেন, কঠিন চীবর দানের মতো ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে সেই আদর্শের চর্চা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সামাজিক অস্থিরতা, বিভেদ ও অসহিষ্ণুতার বিপরীতে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবিকতা ও শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলাও এই উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।

গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারের এই মহাপুণ্যময় আয়োজনকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ ও ধর্মীয় উৎসাহ বিরাজ করছে। পুণ্যার্থীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আধ্যাত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সকল প্রাণীর মঙ্গল ও বিশ্বশান্তি কামনা করছেন।

বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণের মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মীরসরাইয়ের গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে চলমান ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ধর্মদেশনা, সংঘদান ও পুণ্যদানের মধ্য দিয়ে শান্তি, মৈত্রী, করুণা ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে চলেছে এই মহাপুণ্যময় ধর্মীয় উৎসব।

**Hindus News | Voice of Hinduism**

বিষয় : মীরসরাই বৌদ্ধ পূর্নিমা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


মীরসরাইয়ে গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মুখরিত বিহার প্রাঙ্গণ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ, বুদ্ধের অহিংসা ও মৈত্রীর বাণী এবং মানবকল্যাণের প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে চলছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ও মহাপুণ্যময় ধর্মীয় আয়োজন ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব ২০২৬। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বুদ্ধপূজা, সংঘদান, ধর্মদেশনা ও পুণ্যদানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে দিনব্যাপী এই ধর্মীয় মহোৎসব।

ভক্তদের একাংশ


সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন গোপীনাথপুর  এলাকায় অবস্থিত গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে এই মহাপুণ্যময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, উপাসক-উপাসিকা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পুণ্যার্থীরা।


অনুষ্ঠানস্থল থেকে Hindus News-এর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারকে কেন্দ্র করে চলছে দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। পুণ্যার্থীদের অংশগ্রহণে বিহার প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে ধর্মীয় মিলনস্থলে।


সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর মঙ্গল শোভাযাত্রা, প্রয়াত ধর্মীয় গুরুদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, ভিক্ষুসংঘকে দান, ধর্মদেশনা, সংঘদান ও চীবর দান।


বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কঠিন চীবর দান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহাপুণ্যময় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বৌদ্ধ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বর্ষাবাস সমাপ্তির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিক্ষুসংঘকে চীবর দান করা হয়। এই দানকে বৌদ্ধ ধর্মে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পুণ্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুসারে, কঠিন চীবর দানের প্রথা প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। বর্ষাবাস পালনকারী ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে চীবর দানের মাধ্যমে উপাসক-উপাসিকারা ধর্মীয় পুণ্য অর্জনের সুযোগ পান। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দানশীলতা, ত্যাগ, সংযম, শুদ্ধাচার ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।


বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের মূলনীতি অহিংসা, মৈত্রী, করুণা ও প্রজ্ঞার চর্চা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কঠিন চীবর দান উৎসব সেই ধর্মীয় আদর্শগুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।


এবারের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা ও ধর্মদেশনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের বিশিষ্ট ভিক্ষু ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভদন্ত সুনীতানন্দকার ভিক্ষু, সারথীশ্রী ভদন্ত প্রিয়নন্দ মহাথের, ভদন্ত জ্ঞানানন্দকার মহাথের, ভদন্ত শাসনবংশ মহাথের এবং ভদন্ত নেভাল মহাথেরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের প্রতিনিধিরা।


অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরার কর্মসূচি রয়েছে। ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দানসামগ্রী প্রদান এবং প্রয়াত ধর্মীয় গুরুদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনও রাখা হয়েছে।


এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে চীবর দান। বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের মধ্যে ধর্মীয় শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পুণ্যচর্চার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। দানের মাধ্যমে লোভ ও আসক্তি পরিহার এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের শিক্ষাও দেওয়া হয়।


ধর্মীয় অনুষ্ঠানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান সংরক্ষণ করে আসছেন। কঠিন চীবর দান উৎসব সেই ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।


চট্টগ্রামের মীরসরাই অঞ্চলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিহার ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, ধর্মীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।


গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারের কঠিন চীবর দান উৎসব এবার ৩৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এই ধারাবাহিকতা স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐক্য, সংগঠিত প্রচেষ্টা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।


উৎসবের আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রবরবংশ ভিক্ষু, সভাপতি বাবু প্রশান্ত কান্তি বড়ুয়া এবং সম্পাদক বাবু অভিজিৎ বড়ুয়া। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়, বিহার পরিচালনা কমিটি ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এই ধর্মীয় মহোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ভিক্ষুসংঘ ও পুণ্যার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনার পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও মানবিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।


বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী ও করুণা প্রদর্শন করা। মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ ও বিভেদ দূর করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের যে আদর্শ গৌতম বুদ্ধ প্রচার করেছিলেন, কঠিন চীবর দানের মতো ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে সেই আদর্শের চর্চা অব্যাহত রয়েছে।


বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সামাজিক অস্থিরতা, বিভেদ ও অসহিষ্ণুতার বিপরীতে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবিকতা ও শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলাও এই উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।


গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারের এই মহাপুণ্যময় আয়োজনকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ ও ধর্মীয় উৎসাহ বিরাজ করছে। পুণ্যার্থীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আধ্যাত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সকল প্রাণীর মঙ্গল ও বিশ্বশান্তি কামনা করছেন।


বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণের মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মীরসরাইয়ের গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে চলমান ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ধর্মদেশনা, সংঘদান ও পুণ্যদানের মধ্য দিয়ে শান্তি, মৈত্রী, করুণা ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে চলেছে এই মহাপুণ্যময় ধর্মীয় উৎসব।


**Hindus News | Voice of Hinduism**



হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
মীরসরাইয়ে গোলকানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ৩৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মুখরিত বিহার প্রাঙ্গণ
0:00 0:00
1.0x