ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সনাতনী সংস্কৃতির চর্চা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে লালমনিরহাটে সনাতন সেবক সংঘ পরিচালিত ২৯তম সুবা’র বাড়ি নায়েকপাড়া বৈদিক বিদ্যাপীঠের সমাপনী ও গীতাদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গীতাপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয় এ আয়োজন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রামের সুবা’র বাড়ি নায়েকপাড়া এলাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বৈদিক বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সনাতন সেবক সংঘের সদস্যসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আদর্শ অনুসরণ করে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবিকতা, আত্মসংযম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ন্যায়বোধের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত হবে।
সনাতন সেবক সংঘের উদ্যোগে পরিচালিত বৈদিক বিদ্যাপীঠের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের গীতাশিক্ষা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। সংগঠনটির লক্ষ্য ধর্মীয় শিক্ষাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করা।
এদিকে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উত্তরবঙ্গের পরিচিত সনাতনী ব্যান্ড ‘রুদ্রাক্ষ’-এর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রচলিত ডিজে সংগীতের পরিবর্তে সনাতনী ভাবধারা ও ধর্মীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যান্ডটির পরিবেশনা উপস্থিত দর্শনার্থীদের আনন্দ দেয়। ভক্তিমূলক সংগীত ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আয়োজকদের মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সনাতনী সংস্কৃতিকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সনাতন সেবক সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সমাজে ঐক্য, সেবা ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিশু-কিশোরকে গীতাশিক্ষার আওতায় আনা এবং বিভিন্ন এলাকায় নতুন বৈদিক বিদ্যাপীঠ ও গীতা ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এ ছাড়া যেসব এলাকায় শিশু-কিশোরদের জন্য নিয়মিত গীতা শিক্ষার ব্যবস্থা নেই, সেসব এলাকার আগ্রহী ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সনাতন সেবক সংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির বিশ্বাস, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো সম্ভব।
আয়োজকরা আরও জানান, গীতার শিক্ষা মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির চেতনা জাগ্রত করতে সহায়ক। তাই নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘একতা, সেবা ও শান্তি’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সনাতন সেবক সংঘের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, লালমনিরহাটের এই উদ্যোগ অন্যান্য এলাকাতেও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে অনুপ্রেরণা জোগাবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যে সনাতনী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি এবং সমাজে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
Hindus News | Voice of Hinduism

মতামত