দুর্গাপূজা শেষ, চারদিকে চলছে মণ্ডপ খুলে ফেলার প্রস্তুতি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী মানবিকতার দৃষ্টান্ত। একটি ঘুঘু পাখি ও তার অনাগত ছানাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দুর্গাপূজার মণ্ডপের একটি অংশ অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুকান্ত স্মৃতি সংঘের পূজা কিমিটি।
জানা গেছে, চুঁচুড়ার সুকান্ত স্মৃতি সংঘের দুর্গাপূজার মণ্ডপের বাঁশের কাঠামোর মধ্যে বাসা বেঁধেছে একটি ঘুঘু পাখি। সেই বাসায় রয়েছে ডিম। বিষয়টি নজরে আসার পরই পাখিটির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মণ্ডপের ওই অংশ না খোলার সিদ্ধান্ত নেন পূজা কমিটি।
শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হলেও মণ্ডপের বাঁশের কাঠামোয় আশ্রয় নেওয়া পাখিটির প্রতি মমত্ববোধ দেখিয়েছেন তাঁরা। ডিম ফুটে ছানা বের হওয়া এবং সেই ছানারা উড়তে শেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পূজা উদ্যোক্তারা।
উৎসবের আয়োজন যেখানে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, সেখানে একটি ছোট্ট পাখির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি ভালোবাসার এক সুন্দর বার্তা বহন করছে।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কিংবা আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সকল জীবের প্রতি মমত্ববোধ। চুঁচুড়ার এই ঘটনা যেন সেই শিক্ষাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
একটি ঘুঘু পাখির বাসা রক্ষায় পূজা উদ্যোক্তাদের এমন সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত উৎসবের সার্থকতা শুধু আলোকসজ্জা কিংবা জাঁকজমকে নয়, বরং অন্যের জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি যত্নশীল হওয়ার মধ্যেও নিহিত।
মতামত