হিন্দুস নিউজ
Topic Ads 1
মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত আর অবহেলার ইতিহাস বুকে নিয়ে না ফেরার দেশে বীরাঙ্গনা ফুলমতি

মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত আর অবহেলার ইতিহাস বুকে নিয়ে না ফেরার দেশে বীরাঙ্গনা ফুলমতি

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের অন্যতম যুদ্ধাহত নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা গাইবান্ধার রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য ও নানা শারীরিক জটিলতায় শয্যাশায়ী থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই অদম্য নারী বীরের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েও আজীবন সাহস, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করেছেন প্রান্তিক সনাতনী সম্প্রদায়ের এই বীরাঙ্গনা। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর চরম অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চে তিনি নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের উত্তরপাড়া গ্রামের এই নারী দীর্ঘদিন প্যারালাইসিস ও ব্রেন স্ট্রোকসহ নানা বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রথমদিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে সড়কের ধারে সরকারি খাস জমিতে চরম অর্থাভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ‘বীর নিবাস’-এ ঠাঁই হয় তার।​ফুলমতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ছেলে মনিরাজ কুমার জানান, দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী মায়ের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে চিকিৎসকের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৭১ সালে উত্তরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তৎকালীন প্রায় ২৮ বছর বয়সী তরুণী ফুলমতিকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদাররা। তারপর তার ওপর চালানো হয় পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতন। News copied from- 'हिंदूस न्यूज़'—তবে সেই ক্ষত বুকে নিয়েই ১৯৮৮ সালে স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়াকে হারিয়ে পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েকে একা হাতে বড় করে তোলেন এই দৃঢ়চেতা নারী। রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, আত্ম মর্যাদাবান এই বীরাঙ্গনা নারী কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিকেলে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের মধ্য দিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সনাতনী জনগোষ্ঠীর এই মহীয়সী বীরাঙ্গনার প্রয়াণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও মানবাধিকারকর্মীরা তার স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।