জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নারীর প্রতি অবমাননাকর ও অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি নতুন করে সংগঠিত হয়ে নারীর দীর্ঘদিনের অর্জন ও অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকার অভাব নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
ফওজিয়া মোসলেম আরও বলেন, নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নেতৃত্বের প্রশ্নে নারী–পুরুষের বিভাজন নয়, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতাই বিবেচ্য হওয়া উচিত। নারীর অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জনগণ প্রত্যাশা করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে নারীর প্রতি অবমাননাকর, অসম্মানজনক ও অসাংবিধানিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। ১৯৭১–বিরোধী শক্তি সচেতনভাবেই নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। নারীকে গৃহবন্দী করে রাখার মানসিকতা থেকেই এই নারীবিদ্বেষী অপতৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি এসব অপকৌশলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম ও মাসুদা রেহানা, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূসসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নারীর প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার বন্ধ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ এবং রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।
মতামত