বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং তার পূর্বের কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের বৈপরীত্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল হাসনাত আব্দুল্লাহকে একটি হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রসাদ গ্রহণ করতে দেখা যায়, যা বাহ্যত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহনশীলতার বার্তা বহন করে। কিন্তু নেটিজেন এবং সমালোচকদের একাংশ এই দৃশ্যকে কেবলই ‘রাজনৈতিক কৌশল’ বা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
মাত্র কিছুদিন আগেই সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন এবং ইসকন ইস্যু নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। সে সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছিলেন যে চিন্ময়ের জামিন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর নেপথ্যে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের ছায়া দেখেছিলেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন যে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বাংলাদেশের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং প্রশ্ন তুলেছিলেন সরকারের ভূমিকা নিয়ে। এমনকি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “ইন্টেরিম সাবধান! আলিফের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের রাস্তা উন্মুক্ত করলে পরিণতি ভালো হবে না।”
এই অগ্নিঝরা বক্তব্যের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গতকাল, যখন তিনি মন্দিরে গিয়ে প্রসাদ গ্রহণ করছিলেন। সমালোচকদের অভিযোগ, হাসনাত আব্দুল্লাহর এই আচরণের পেছনে গভীর ‘ভোটের রাজনীতি’ কাজ করছে। তাদের মতে, যখন প্রয়োজন ছিল তখন তিনি আদালত ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন, আর এখন নির্বাচনের হাওয়া ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সহানুভূতি পেতে ‘সহনশীল’ সাজার চেষ্টা করছেন। বিশেষত, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের ওপর ঘটে যাওয়া হামলা বা নির্যাতন নিয়ে এই নেতাকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ বা বক্তব্য দিতে দেখা না গেলেও, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন উদীয়মান নেতা হিসেবে তার এই আচরণের অসামঞ্জস্যতা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, হিন্দুদের প্রকৃত সুরক্ষা বা অধিকার নিয়ে কথা না বলে কেবল প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে সহমর্মিতা প্রকাশ করা এক ধরণের প্রহসন। হিন্দু সমাজ যদি সচেতন থাকে, তবে তারা এই ধরনের প্রতীকী রাজনীতির ফাঁদে পা দেবে না বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।
মতামত