শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্টস ক্লাব পূজা উদ্যাপন পরিষদের ২৮তম সর্বজনীন শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গোৎসব। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এবারের দুর্গোৎসবে পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, ধুনুচি নৃত্য, জাগরণ পুঁথি পাঠ, নৃত্যনাটিকা, ঢাকের বাদ্য ও বর্ণাঢ্য র্যালিসহ নানা আয়োজন।
আয়োজকদের পরিকল্পনায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পী, বেতার শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
আয়োজকদের দেওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শনিবার সপ্তমীর দিন সন্ধ্যা ৬ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা আরতি ও ধুনুচি নৃত্য। একই দিন রাত ৮ঘটিকায় স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে জাগরণ পুঁথি পাঠ।
১৮ অক্টোবর রবিবার বিকেল ৩ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘লহ অঞ্জলি শারদা’। এতে স্থানীয় শিল্পী ও বেতার শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। সন্ধ্যা ৬ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা আরতি ও ধুনুচি নৃত্য। এতে সাহস ঢাকী ও তাঁর দল অংশ নেবেন।
রাত ৮ঘটিকায় নটরাজ নৃত্যাঞ্জলি একাডেমী-এর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে নৃত্যনাটিকা ‘মহাভোগিনী ও বোধনধ্বনি’। নৃত্যনাটিকাটি পরিচালনা করবেন রুবেল। ধর্মীয় ভাবধারা ও নৃত্যশিল্পের সমন্বয়ে আয়োজিত এ পরিবেশনা দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। রাত ১২ঘটিকায়য় অনুষ্ঠিত হবে জাগরণ পুঁথি পাঠ।
এরপর ১৯ ও ২০ অক্টোবর সোমবার ও মঙ্গলবার, অষ্টমী ও নবমী উপলক্ষে থাকছে বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন। দুই দিনই সন্ধ্যা ৬ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা আরতি ও ধুনুচি নৃত্য। এতে সাহস ঢাকী ও তাঁর দল অংশ নেবেন। রাত ১টায় স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে জাগরণ পুঁথি পাঠ।
উৎসবের শেষ দিন ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী উপলক্ষে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য র্যালি। এতে পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ভক্তদের অংশগ্রহণ থাকবে। পরে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে মায়ের নিরঞ্জন। রাত ৮ঘটিকায় আয়োজনে থাকবে ‘ভৈরব’-এর মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।
আয়োজকরা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মিলন, আনন্দ ও সৌহার্দ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাই ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এবারের আয়োজনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাদের প্রত্যাশা, কয়েক দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে পূজামণ্ডপে সৃষ্টি হবে উৎসবমুখর পরিবেশ। আরতি, ধুনুচি নৃত্য, পুঁথি পাঠ, নৃত্যনাটিকা, সংগীত ও বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে ২৮তম সর্বজনীন শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠবে আনন্দ, ভক্তি ও সম্প্রীতির মিলনমেলা।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে এবারের আয়োজন সবার অংশগ্রহণে সফল হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলেও আশা করছেন তারা।
মতামত