শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে Emirates Airlines–এর ফ্লাইট ‘ইকে ৫৮৩’-এ দুবাই–এর উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। পরে তার চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল নেদারল্যান্ডস।
বিমানবন্দরের যাত্রী আগমন-নির্গমন সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, দেশ ছাড়ার সময় তিনি নেদারল্যান্ডসের ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। যদিও তার কাছে কূটনৈতিক ও ব্যক্তিগত—দুই ধরনের পাসপোর্টই ছিল।
পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ব্যবহার করায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছে বিদেশ গমনের সরকারি আদেশ (জিও) দেখতে চান। প্রাথমিকভাবে তার কাছে জিও না থাকলেও পরে মুঠোফোনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জিও সংগ্রহ করে সফট কপি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দেখান তিনি। এরপরই তাকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না থাকায় দেশত্যাগে বাধা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠনের লক্ষ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে মন্ত্রণালয়টি শূন্য হয়। পরে একই বছরের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে ‘পলিসি অ্যাডভাইজার (সংস্কার ও সমন্বয়)’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রযুক্তি খাত সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে নেদারল্যান্ডস থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। তিনি নেদারল্যান্ডসের নাগরিক।
এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সরকারের ঘনিষ্ঠ পর্যায়ের কেউ কেউ দেশ ছাড়তে পারেন—এমন গুঞ্জনের মধ্যেই ফয়েজ তৈয়্যবের দেশত্যাগের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতামত