বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের একাধিক সংগঠনের সঙ্গে গত শুক্রবার ঢাকায় নিজের দফতরে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত আইন মন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ঢাকায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের বেদখল জমি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ নতুন আইন মন্ত্রীর সহায়তা চান। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ভাওয়ালের রাজা মোট কুড়ি একর জমি ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জন্য বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মন্দিরের দখলে আছে মাত্র আট একর জমি। বাকি ১২ একর জমি বেহাত হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাস হয়েছে পাঁচ একর জমি জুড়ে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী কে বলেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তারা করছেন না। তবে বাকি জমি ফেরানোর বিষয়ে আদালতে মামলা বিবেচনাধীন। ওই মামলায় সরকার যাতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে নতুন আইন মন্ত্রীকে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে আর্জি জানানো হয়েছে।
বৈঠকে শত্রু সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়েও কথা হয়। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তৎকালীন পাকিস্তানি সরকার হিন্দুদের অনেকেরই জমি জায়গা দখল করেছিল শত্রু সম্পত্তি বলে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ওই সম্পত্তি হিন্দুরা ফেরত পাননি। শেখ মুজিবুর রহমানের সময় পাকিস্তান সরকারের তৈরি আইনের নাম বদলে করা হয় অর্পিত সম্পত্তি আইন।
সেই আইনের পরিবর্তন করেছিলেন তার কন্যা শেখ হাসিনা ২০০১ সালের প্রথম ভাগে। হাসিনা তখন ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শত্রু সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন আওয়ামী লিগ সরকার তৈরি করলেও তা বাস্তবায়নে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি বলে হিন্দুদের সংগঠনগুলির অভিযোগ।
নতুন আইন মন্ত্রীর সঙ্গে হিন্দু সংগঠনগুলির নেতাদের প্রায় দু'ঘণ্টা কথা হয়। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, মন্ত্রী সমস্ত বিষয়টি শুনেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলকে তিনি নির্দেশ দেবেন ঢাকেশ্বরী জমি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলায় সরকারের তরফে যথোপযুক্ত সহায়তা করার জন্য। বাসুদেব ধর জানান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মামলাটি আদালতে শুনানির জন্য ওঠার কথা। বৈঠকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তরফে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্রকুমার নাথ। উপস্থিত ছিলেন পূজা পরিষদের সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা প্রমুখ।
হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন শত্রু সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। মন্ত্রীর সঙ্গে হিন্দু নেতাদের বৈঠকে বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী নিজে একজন আইন বিশারদ। অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালীন তিনি দক্ষতার সঙ্গে সরকারের হয়ে মামলা লড়েছেন বলে আইনজ্ঞ মহলের বক্তব্য। তাঁর সঙ্গে কথা বলে হিন্দু নেতৃত্ব খুশি।
গত বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন বাংলাদেশে মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান, সমতল পাহাড় যেখানে যে বাস করছেন সকলের অধিকার সমান। তার কথার মূল সুর ছিল ধর্ম যার যার দেশ সবার।
হিন্দু নেতৃবৃন্দরা বলে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই আইনমন্ত্রী তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন।
মতামত