কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানের মতো পবিত্র ও শোকের স্থানে পিকনিক, গরুর মাংস রান্নাবান্না এবং মৃত ব্যক্তির সমাধি বা চিতার ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানের পবিত্র পরিবেশে কয়েকজনকে পিকনিকের আয়োজন করতে দেখা যায়। সেখানে গরুর মাংস রান্নাবান্নার পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির সমাধি বা চিতার ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার মতো আচরণের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সনাতনীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সনাতনীদের অনেকে বলেন, মহাশ্মশান হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন একটি স্থান। সেখানে মৃত স্বজনদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় এবং সমাধি ও চিতাস্থানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়। এমন স্থানে পিকনিকের আয়োজন, রান্নাবান্না কিংবা সমাধি ও চিতার ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলার মতো আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির বিষয়ে সনাতনীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মন্তব্য, ধর্মীয় ও শ্মশানস্থানের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব সবার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন এমন স্থানের ধর্মীয় অনুভূতি ও মৃতদের প্রতি সম্মানকে অবজ্ঞা করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, অভিযোগটি সত্য হলে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরেকজন মন্তব্য করেন, “মহাশ্মশান শুধু একটি জায়গা নয়; এটি মৃতদের শেষকৃত্য ও স্বজনদের আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি পবিত্র স্থান। সেখানে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানের মতো সংবেদনশীল ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শ্মশানের নিরাপত্তা ও পবিত্র পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতনীরা।
মতামত