ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা একক কোনো দলের নয় বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া-৫ আসন থেকে বিজয়ী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বগুড়ার শেরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিজয় হয়েছে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
“সেই বৈষম্যবিরোধী চেতনার বিরুদ্ধে দেশ পরিচালনার কারণে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মূল ভিত্তি। আর এবার হিন্দু সম্প্রদায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা একক কোনো দলের নয়।”
এ সময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সিরাজ তার নির্বাচনি এলাকা ভবানীপুর মন্দির, শেরপুরের মহা শ্মশানসহ সব মন্দিরের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শহরের টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা অনার্স কলেজ চত্বরে সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। বিএনপি সব সময় আপনাদের সাথে আছে এবং থাকবে।”
উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুণ্ডু। এতে কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ কমিটি ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সিরাজকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন।
এতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শেরপুরের সভাপতি বিপ্লব কুমার বর্মন, শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির কমিটির সহসভাপতি প্রকাশ সরকার, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাধন চক্রবর্তী, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বিদ্যুৎ সরকার, সাপ্তাহিক তথ্যমালা পত্রিকার সম্পাদক সুজিত বসাক, বগুড়া জেলার হিন্দু মহাজোটের সহসভাপতি আশীষ চন্দ্র সরকার, ব্যবসায়ী পীযূষ চক্রবর্তী, চিকিৎসক অরুণাংশু মণ্ডল, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক জয় কিশোর মুন্সী, চিকিৎসক অপু বসাক, চিকিৎসক তন্ময় বর্মন, গোবিন্দ কাঙ্গাল ভক্ত কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কৈরি, শ্রী-শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির কমিটির শুভ অধিকারী, ধুনট উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শেফালী ঘোষ, অশোক কুমার কুণ্ডু, সাবেক কাউন্সিলর গোবিন্দ বাগচী, সৌমিত্র ঠাকুর, চন্দন কুমার দাস এবং নিমাই ঘোষ বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জানে আলম খোকা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং জেলা ও উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী বক্তব্য দেন।
মতামত