বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আপত্তিকর ছবি তোলার অভিযোগ তুলে তুর্য্য বাড়ৈ নামে এক হিন্দু শিক্ষার্থীর উপর মব হামলার অভিযোগ উঠেছে।
পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। হঠাৎ করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তুর্য্য বাড়ৈ দীর্ঘদিন ধরে নারী সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি নিজের ডিভাইসে সংরক্ষণ করতেন। তার কাছ থেকে জব্দ করা একটি ডিভাইসে কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পাদিত কিছু ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তুর্য্য বাড়ৈ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের একজন নিয়মিত ছাত্র। সহপাঠীদের কাছে তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবেই পরিচিত। অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অতীতে কখনও এ ধরনের কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।
সহপাঠীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে তুর্য্য প্রায়ই সোচ্চার ছিলেন। বিশেষ করে ক্যাম্পাসে হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে কিছু অহিন্দু শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার বিতর্কও হয়েছিল। তাদের মতে, এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, যেসব ব্যক্তি মবের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকেই একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে পুরো ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তুর্য্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তারা তাকে ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের একজন শিক্ষার্থী হিসেবেই চেনেন। তার বিরুদ্ধে আগে কখনও কোনো নেতিবাচক অভিযোগ ওঠেনি বলেও তারা জানান।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
এ ঘটনায় বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করার কথা জানিয়েছে। মামলার এজাহার হাতে পেলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, তুর্য্য বাড়ৈকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার একাডেমিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী যে ছবি তুলেছে সেগুলো অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে কি না, বা কোনো গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না—সেসব বিষয়ও পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।
এদিকে ক্যাম্পাসে অনেকেই অভিযোগ করছেন, বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়ে একজন হিন্দু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মব তৈরি করা হয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
মতামত