শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

আগৈলঝাড়ায় মন্দির ভাঙচুর না কি সংস্কার? আদালত অবমাননার অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া


| প্রিন্ট সংস্করণ

আগৈলঝাড়ায় মন্দির ভাঙচুর না কি সংস্কার? আদালত অবমাননার অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির ভাঙচুর ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ অমান্য করে মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ইন্টারন্যাশনাল মতুয়া মিশন বাংলাদেশের এক নেতা, অন্যদিকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ একে 'বৃহত্তর স্বার্থে মন্দির সংস্কার' এবং 'উন্নয়ন বিরোধী ষড়যন্ত্র' হিসেবে দাবি করছেন।


​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের আঙ্গিনায় অবস্থিত শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরটি ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় গত ৯ মার্চ বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন অমল চন্দ্র হালদার। আদালত বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও গত কয়েকদিনে মন্দিরের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী অমল চন্দ্র হালদার জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী সঞ্জিত কুমার বাড়ৈ ও অমূল্য রতন বাড়ৈসহ একদল লোক পুলিশের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক মন্দিরটি ভেঙে ফেলেছেন। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে এলাকাছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।

​তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'মিথ্যা' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগাণ্ডা' হিসেবে অভিহিত করেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্য একটি পক্ষ। সংবাদ প্রকাশের পর জনৈক স্থানীয় ব্যক্তি প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে দাবি করেন, পুরো জায়গাটি মূলত 'কালিখোলা' নামে পরিচিত এবং এটি সম্পূর্ণ কালী মন্দিরের সম্পত্তি। সেখানে ক্রমান্বয়ে দুর্গা, রাধাকৃষ্ণ ও হরিচাঁদ মন্দির গড়ে উঠেছিল। কিন্তু মন্দিরগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এবং আগৈলঝাড়ায় কোনো বড় কেন্দ্রীয় মন্দির না থাকায় স্থানীয় চিকিৎসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নেন।

​অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, "এই মহতী উদ্যোগে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জরাজীর্ণ ছোট ছোট আলাদা মন্দির না রেখে এক ছাদের নিচে আধুনিক উপায়ে সবগুলো দেব-দেবীর মন্দির স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে শ্রী পদ্মনাভ নিজে এসে এই কাজের উদ্বোধন করে গেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকজন মতুয়া নেতা, যারা মূলত দেশের বাইরে থাকেন, তারা ভুল বুঝে এই উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছেন। আমাদের সন্দেহ, কিছু অহিন্দু গোষ্ঠী এই উন্নয়ন ঠেকাতে না পেরে এখন সাধারণ মতুয়াদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে।"

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​এদিকে, আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ হাসান খান জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মিশনের সভাপতি বিমল চন্দ্র করের অভিযোগ, পুলিশ বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মন্দির ভাঙচুরে সহায়তা করেছে।

​বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে জরাজীর্ণ মন্দির ভেঙে আধুনিক মন্দির কমপ্লেক্স গড়ার পক্ষের মানুষ, অন্যদিকে প্রাচীন শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে অনড় মতুয়া ভক্তরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ধর্মীয় বিভেদ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আগৈলঝাড়ায় মন্দির ভাঙচুর না কি সংস্কার? আদালত অবমাননার অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির ভাঙচুর ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ অমান্য করে মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ইন্টারন্যাশনাল মতুয়া মিশন বাংলাদেশের এক নেতা, অন্যদিকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ একে 'বৃহত্তর স্বার্থে মন্দির সংস্কার' এবং 'উন্নয়ন বিরোধী ষড়যন্ত্র' হিসেবে দাবি করছেন।


​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের আঙ্গিনায় অবস্থিত শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরটি ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় গত ৯ মার্চ বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন অমল চন্দ্র হালদার। আদালত বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও গত কয়েকদিনে মন্দিরের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী অমল চন্দ্র হালদার জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী সঞ্জিত কুমার বাড়ৈ ও অমূল্য রতন বাড়ৈসহ একদল লোক পুলিশের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক মন্দিরটি ভেঙে ফেলেছেন। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে এলাকাছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।

​তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'মিথ্যা' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগাণ্ডা' হিসেবে অভিহিত করেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্য একটি পক্ষ। সংবাদ প্রকাশের পর জনৈক স্থানীয় ব্যক্তি প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে দাবি করেন, পুরো জায়গাটি মূলত 'কালিখোলা' নামে পরিচিত এবং এটি সম্পূর্ণ কালী মন্দিরের সম্পত্তি। সেখানে ক্রমান্বয়ে দুর্গা, রাধাকৃষ্ণ ও হরিচাঁদ মন্দির গড়ে উঠেছিল। কিন্তু মন্দিরগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এবং আগৈলঝাড়ায় কোনো বড় কেন্দ্রীয় মন্দির না থাকায় স্থানীয় চিকিৎসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নেন।

​অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, "এই মহতী উদ্যোগে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জরাজীর্ণ ছোট ছোট আলাদা মন্দির না রেখে এক ছাদের নিচে আধুনিক উপায়ে সবগুলো দেব-দেবীর মন্দির স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে শ্রী পদ্মনাভ নিজে এসে এই কাজের উদ্বোধন করে গেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকজন মতুয়া নেতা, যারা মূলত দেশের বাইরে থাকেন, তারা ভুল বুঝে এই উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছেন। আমাদের সন্দেহ, কিছু অহিন্দু গোষ্ঠী এই উন্নয়ন ঠেকাতে না পেরে এখন সাধারণ মতুয়াদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে।"

​এদিকে, আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ হাসান খান জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মিশনের সভাপতি বিমল চন্দ্র করের অভিযোগ, পুলিশ বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মন্দির ভাঙচুরে সহায়তা করেছে।

​বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে জরাজীর্ণ মন্দির ভেঙে আধুনিক মন্দির কমপ্লেক্স গড়ার পক্ষের মানুষ, অন্যদিকে প্রাচীন শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে অনড় মতুয়া ভক্তরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ধর্মীয় বিভেদ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
আগৈলঝাড়ায় মন্দির ভাঙচুর না কি সংস্কার? আদালত অবমাননার অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
0:00 0:00
1.0x