ঢাকার সাভার উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী একটি শান্ত জনপদ এখন জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসা অন্তত ৪২টি হিন্দু পরিবার নিজেদের আদি ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জানা যায়, তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের পানপাড়া মহল্লায় কয়েক শতাধিক হিন্দু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার প্রভাবশালী এক সাবেক বিএনপি নেতা ও বর্তমান সমর্থক সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) ওই এলাকার প্রায় ৯২ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নানা উপায়ে চাপ প্রয়োগ করেও উচ্ছেদে ব্যর্থ হয়ে তিনি সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে অন্তত ৩০টি হিন্দু পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন খুশি মোহন রাজবংশী, আনন্দ রাজবংশী, ভজন রাজবংশী, সুশীল রাজবংশী, বিমল রাজবংশী, ধীরেন রাজবংশী, রঘুনাথ রাজবংশী, গৌরাঙ্গ সূত্রধর, রানা রাজবংশী, পলাশ রাজবংশী, কাঞ্চন রানী দাস, ফুলচাঁন রাজবংশী, নয়নতারা রাজবংশী, সঞ্জিত রাজবংশী, নিত্যানন্দ রাজবংশী ও নারায়ণ রাজবংশীসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে সেটেলমেন্ট অফিসের সার্ভেয়ার মনির হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ রাজবংশী বলেন, “আমরা পৈতৃক সূত্রে এই জমির মালিক। বহু বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। এখন একজন হঠাৎ করে জমির মালিকানা দাবি করে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। আমরা অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছি।
অন্য এক বাসিন্দা চিত্ত রাজবংশী জানান, “আমরা তাকে কাগজপত্র দেখাতে বলেছি। কিন্তু তিনি কোনো দলিল দেখাতে পারেননি। উল্টো বলেন, ‘আমার কাগজ লাগবে মানে, আমিই তো কাগজ।’ প্রায়ই আমাদের একজন একজন করে ডেকে নেয়, এতে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) বলেন, “ওরাই আমার জমি দখল করে রেখেছে। আমি দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় তারা সুযোগ নিয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, “পানপাড়া এলাকায় পূর্বে রাস্তা দখলের সমস্যা ছিল, যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। এখন যদি কেউ সংখ্যালঘু বা অন্য কারও জমি দখলের চেষ্টা করে, তাহলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মহব্বত কবীর জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মতামত