মানুষ মানুষের জন্য—এই চিরন্তন সত্যকে আবারও প্রমাণ করলেন একদল হৃদয়বান মানুষ। শ্রীনগর এলাকায় বাসের হেলপারি করা শারীরিক প্রতিবন্ধী শীতল মন্ডলের জীবন বদলে দিতে এগিয়ে এসেছেন তাঁরা। সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ভুলে 'মানবতাই পরম ধর্ম'—এই আদর্শকে সামনে রেখেই পাল্টে দেওয়া হয়েছে একজন শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্য।শীতল মন্ডল একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে তাঁর বড় পরিচয় তিনি একজন লড়াকু মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্রীনগর-যাত্রাবাড়ী রুটে বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করছিলেন। শরীরের পুরো অংশ অস্বাভাবিকভাবে কাঁপা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃণা করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন হাড়ভাঙা খাটুনির এই কাজ। ঠিকমতো হাঁটতে না পারলেও বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকতেন তিনি। সামান্য আয়ে কোনো অভিযোগ ছাড়াই হাসিমুখে সংসার চালাতেন এই বৃদ্ধ।
শীতল মন্ডলের এই কষ্টকর জীবন চোখে পড়ে স্থানীয় এক যুবকের। তিনি জানান, "যাকে প্রথমবার দেখলে সুস্থ যে কেউ মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করবে। শত কষ্টের মাঝেও তাঁর মুখে কোনো অভিযোগ ছিল না। ইসলাম আমাদের শান্তির শিক্ষা দেয়, আমাদের শিখিয়েছে মানবতার সেবা করতে। সেই শিক্ষার আলো থেকেই আমরা শীতল বাবার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় একদল তরুণের উদ্যোগে সংগ্রহ করা হয় অর্থ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শীতল মন্ডলকে একটি টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তাঁকে আর বাসের হেলপার হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হবে না। বাকি জীবন যাতে তিনি শান্তিতে এবং সম্মানের সাথে কাটাতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতরা মনে করেন, ইসলামে মানবতার সেবা সর্বাগ্রে। অন্য ধর্মের মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা ইসলামেরই শিক্ষা। শীতল মন্ডলের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।শীতল মন্ডল আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "আমি কোনোদিন ভাবিনি আমার কষ্ট কেউ এভাবে বুঝবে। আজ থেকে আমার আর কষ্ট করে বাসে যাত্রী ডাকতে হবে না। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
মতামত