শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

মহাদেবের ‘দৈব বাণ’ নাকি সাজানো ঘটনা? বটিয়াঘাটার ভাইরাল মহিলা সন্ন্যাসীর রহস্য ফাঁস!


| প্রিন্ট সংস্করণ

মহাদেবের ‘দৈব বাণ’ নাকি সাজানো ঘটনা? বটিয়াঘাটার ভাইরাল মহিলা সন্ন্যাসীর রহস্য ফাঁস!
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

 গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুকদাড়া গ্রামের এক মহিলা সন্ন্যাসীর ছবি ও ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। প্রচার করা হচ্ছিল, গত ১০ এপ্রিল (২০২৬) শুক্রবার গভীর রাতে স্বয়ং মহাদেব তাকে ‘দৈব বাণ’ (ত্রিশূল) প্রদান করেছেন, যা অলৌকিকভাবে তার মুখে বিদ্ধ হয়েছে। তবে এই ‘অলৌকিক’ দাবির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য এবার প্রকাশ্যে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরই এক অনুসন্ধানে।

জানা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ওই মহিলা সন্ন্যাসী বটিয়াঘাটা বাজারের স্বনামধন্য স্বর্ণের দোকান ‘নিউ তাপসী জুয়েলার্স’-এ যান। সে সময় তার হাতে একটি তামার ত্রিশূল ছিল, যা হুবহু ভাইরাল হওয়া সেই বাণের মতো (যেটি পরে তার মুখে দেখা গেছে)। তিনি ওই তামার ত্রিশূলের আদলে একটি স্বর্ণের ত্রিশূল বানানোর জন্য কারিগরদের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণকারদের ত্রিশূল তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দোকান কর্তৃপক্ষ তা বানাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাকে ফিরিয়ে দেয়।

এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই জনমনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন— যে ত্রিশূল স্বয়ং ভগবান মহাদেব গভীর রাতে দৈবভাবে তার মুখে পরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, ঠিক একই আকৃতির তামার ত্রিশূল ওইদিন দুপুরে ওই মহিলার হাতে জুয়েলার্সের দোকানে কীভাবে এল?

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা বলছেন, চৈত্র সংক্রান্তি বা চরক পূজায় সন্ন্যাসীদের বাণ ফোঁড়ার মতো কষ্টসাধ্য রীতি আবহমান কাল ধরে চলে আসছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে যা করা প্রায় অসম্ভব, সন্ন্যাসীরা অসীম সাহসিকতায় তা পালন করেন। তাদের এই ভক্তি ও সাহসিকতা সবসময়ই প্রশংসনীয়।

কিন্তু এই স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যবাহী রীতিটিকে নিছক সস্তা প্রচারণার লোভে ‘দৈব বাণ’ বা অলৌকিক ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলার শামিল। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুরু থেকেই এটিকে চরক পূজার স্বাভাবিক রিচুয়াল হিসেবে প্রচার করলে মানুষের ভক্তি ও শ্রদ্ধার কোনো কমতি হতো না। কিন্তু অলৌকিকত্বের মিথ্যা গল্প ফেঁদে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো একেবারেই অনুচিত হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মহাদেবের ‘দৈব বাণ’ নাকি সাজানো ঘটনা? বটিয়াঘাটার ভাইরাল মহিলা সন্ন্যাসীর রহস্য ফাঁস!

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

 গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুকদাড়া গ্রামের এক মহিলা সন্ন্যাসীর ছবি ও ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। প্রচার করা হচ্ছিল, গত ১০ এপ্রিল (২০২৬) শুক্রবার গভীর রাতে স্বয়ং মহাদেব তাকে ‘দৈব বাণ’ (ত্রিশূল) প্রদান করেছেন, যা অলৌকিকভাবে তার মুখে বিদ্ধ হয়েছে। তবে এই ‘অলৌকিক’ দাবির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য এবার প্রকাশ্যে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরই এক অনুসন্ধানে।

জানা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ওই মহিলা সন্ন্যাসী বটিয়াঘাটা বাজারের স্বনামধন্য স্বর্ণের দোকান ‘নিউ তাপসী জুয়েলার্স’-এ যান। সে সময় তার হাতে একটি তামার ত্রিশূল ছিল, যা হুবহু ভাইরাল হওয়া সেই বাণের মতো (যেটি পরে তার মুখে দেখা গেছে)। তিনি ওই তামার ত্রিশূলের আদলে একটি স্বর্ণের ত্রিশূল বানানোর জন্য কারিগরদের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণকারদের ত্রিশূল তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দোকান কর্তৃপক্ষ তা বানাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাকে ফিরিয়ে দেয়।

এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই জনমনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন— যে ত্রিশূল স্বয়ং ভগবান মহাদেব গভীর রাতে দৈবভাবে তার মুখে পরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, ঠিক একই আকৃতির তামার ত্রিশূল ওইদিন দুপুরে ওই মহিলার হাতে জুয়েলার্সের দোকানে কীভাবে এল?

স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা বলছেন, চৈত্র সংক্রান্তি বা চরক পূজায় সন্ন্যাসীদের বাণ ফোঁড়ার মতো কষ্টসাধ্য রীতি আবহমান কাল ধরে চলে আসছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে যা করা প্রায় অসম্ভব, সন্ন্যাসীরা অসীম সাহসিকতায় তা পালন করেন। তাদের এই ভক্তি ও সাহসিকতা সবসময়ই প্রশংসনীয়।

কিন্তু এই স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যবাহী রীতিটিকে নিছক সস্তা প্রচারণার লোভে ‘দৈব বাণ’ বা অলৌকিক ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলার শামিল। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুরু থেকেই এটিকে চরক পূজার স্বাভাবিক রিচুয়াল হিসেবে প্রচার করলে মানুষের ভক্তি ও শ্রদ্ধার কোনো কমতি হতো না। কিন্তু অলৌকিকত্বের মিথ্যা গল্প ফেঁদে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো একেবারেই অনুচিত হয়েছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
মহাদেবের ‘দৈব বাণ’ নাকি সাজানো ঘটনা? বটিয়াঘাটার ভাইরাল মহিলা সন্ন্যাসীর রহস্য ফাঁস!
0:00 0:00
1.0x