একদা যে বাংলা তার কৃষ্টি ও শাশ্বত ঐতিহ্যের গৌরবে বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত ছিল, সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত নববর্ষের এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বাংলার সংস্কৃতি ও হাজার বছরের ঐতিহ্য পৃথিবীর বহু জাতির চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। আমাদের এই নিজস্ব সম্পদকে যদি আমরা বিশ্ব দরবারে সঠিক ও যথাযথভাবে উপস্থাপিত করতে পারি, তবে বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা পুনরায় নিজেদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি একটি জাতির প্রাণভ্রমরা বা আত্মা। কোনো জাতির কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চার গভীরতা পর্যবেক্ষণ করলেই সেই জাতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া সম্ভব।
নিতাই রায় চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুস্থ ও শেকড়সন্ধানী সংস্কৃতি চর্চাকে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে আমাদের নিজস্ব কৃষ্টির প্রসার ঘটাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুসংহত সমাজ গঠনে বিশ্বাসী। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের সংস্কৃতির সমান মর্যাদা থাকবে।
বক্তব্যের শেষাংশে মন্ত্রী ‘বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যই হলো একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রকৃত সৌন্দর্য। আমরা বিভেদ নয়, বরং এই বৈচিত্র্যের শক্তির মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাসাস-এর শিল্পী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত