একজন অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকার শারীরিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ। প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালেও নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী শিক্ষিকা নবনীতা সিনহা। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে সকালে হঠাৎ তিনি কিছুটা অসুস্থ বোধ করেন এবং বমি করার পর বিদ্যালয় কার্যালয়ে সামান্য সময় বিশ্রাম নেন। প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্র কুমার সিংহ তাকে তাৎক্ষণিক ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দিলেও, শরীরের কিছুটা উন্নতি ঘটায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের স্বার্থে তিনি ছুটি না নিয়ে হাসিমুখে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
বিকেলের দিকে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়ার সময় আবারও তার বমি ভাব হয় এবং তিনি বাইরে গিয়ে বমি করে ক্লাসে ফিরে আসেন। শারীরিক মারাত্মক অস্বস্তির কারণে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য তিনি টেবিলে মাথা রেখে একটু বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো প্রকার পেশাদারিত্ব ও সৌজন্যবোধের তোয়াক্কা না করে এক কথিত সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হন। শিক্ষিকার সাথে কোনো কথা না বলেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েক সেকেন্ডের একটি অস্পষ্ট ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিও করার সময় শ্রেণিকক্ষের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিকে মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও সন্দেহজনক। শিক্ষার্থীরা বারবার তাদের প্রিয় শিক্ষিকাকে সতর্ক করে জানালেও ওই কথিত সংবাদকর্মী শিক্ষিকার কোনো কথা না শুনেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা সেই বানোয়াট সংবাদে দাবি করা হয় যে, শিক্ষিকা নাকি তাদের সাথে কথা বলতে চাননি—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এমনকি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষক ফোনে মাত্র কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনো নিরপেক্ষ বক্তব্যের অপেক্ষা না করেই তারা সেখান থেকে সটকে পড়ে। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষিকা ও সনাতনী সমাজের গর্ভবতী নারীর ওপর এভাবে মিথ্যা অপবাদ আরোপ এবং তার সম্মানহানির অপচেষ্টা মৌলিক মানবাধিকার ও পেশাগত নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া যারা কোনো নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, তাদের সাংবাদিকতার ওপর ন্যূনতম কোনো জ্ঞান নেই। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সনাতনী জনগোষ্ঠী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ওই নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মতামত