শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পূজামণ্ডপ সাজানো, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার মহাজন পাড়ায় ছাত্র সমাজ সংঘের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬।
এবারের দুর্গোৎসবের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাগরণে মন্ময়ী’। দেবী দুর্গার আগমনকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত এ প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে শক্তি, জাগরণ, সত্য ও ন্যায়ের চেতনা তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার মহাজন পাড়ায় পূজার আয়োজনকে ঘিরে আয়োজকদের মধ্যে চলছে ব্যস্ততা। প্রতিমা স্থাপন, মণ্ডপ প্রস্তুত, আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। পূজার দিনগুলোতে যাতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নিতে পারেন, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও এ আয়োজন ঘিরে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিশেষ করে শিশু-কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক দিনব্যাপী এ আয়োজনে ধর্মীয় পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক মিলন ও পারস্পরিক সম্প্রীতির আবহ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেবী দুর্গার পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। ভক্তরা দেবীর কাছে নিজেদের, পরিবার ও সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করবেন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, দেবী দুর্গা শক্তি ও অসুরনাশিনীর প্রতীক। দুর্গোৎসবের মাধ্যমে অন্যায় ও অশুভের বিরুদ্ধে শুভ ও ন্যায়ের বিজয়ের বার্তা তুলে ধরা হয়। তাই ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি এ উৎসব মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনাও জাগ্রত করে।
আয়োজকরা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। পূজামণ্ডপকে ঘিরে প্রতিবছর বিভিন্ন বয়সী মানুষের মিলন ঘটে। আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
‘জাগরণে মন্ময়ী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের আয়োজনেও ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সবাই মিলে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন করবেন।
ছাত্র সমাজ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত, দর্শনার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে পূজার দিনগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার মহাজন পাড়ার এ আয়োজনকে ঘিরে এখন অপেক্ষা শুধু দেবীর আগমনের। প্রতিমা, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিগগিরই মুখর হয়ে উঠবে পুরো মহাজন পাড়া। ভক্তদের প্রত্যাশা—মায়ের আরাধনায় দূর হোক অশুভ, জাগুক শুভশক্তি, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি ও সম্প্রীতি।
মতামত