শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির আশীর্বাদ গ্রহণ এবং পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দিরে পূজা সম্পন্ন করে বাগেরহাট-১ (চিতলমারী–ফকিরহাট–মোল্লাহাট) সংসদীয় আসনে মনোনয়ন ফর্ম জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী বাবু কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। গতকাল তিনি মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শ্যামানন্দ কুন্ডুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফর্ম জমা দেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের আলোচনা, জল্পনা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ উপজেলা চিতলমারীতে আগমন করেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। তাঁর আগমনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই চিতলমারী সীমান্তবর্তী কুনিয়া বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও মতুয়া সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ। দুপুরের দিকে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ সংবর্ধনায় তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ ডঙ্কা-কাশি বাজিয়ে ঐতিহ্যবাহীভাবে স্বাগত জানান।
এরপর তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চিতলমারী সদর বাজারে এক পথসভায় অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোমিনুল হক টুলু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হাসান অপু, সাবেক সদস্য সচিব আহসান হাবীব ঠাণ্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, শফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাকারিয়া মিলন, সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদসহ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পথসভায় বক্তারা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের মনোনয়নকে তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পথসভা শেষে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বাগেরহাট-১ আসনের অপর দুই উপজেলা ফকিরহাট ও মোল্লাহাটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও গণসংযোগ জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বাগেরহাট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, তিনি নির্বাচিত হলে সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।


মতামত