ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে সহকর্মীর অসাবধানতাবশত ছোড়া গুলিতে বজেন্দ্র বিশ্বাস (৪২) নামে এক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত লাবিব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড’-এ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনসার সদস্য নোমান মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত বজেন্দ্র বিশ্বাস সিলেট সদর উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পিতা পবিত্র বিশ্বাস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আনসার সদস্য হিসেবে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত নোমান মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানার বালুটুরি বাজার এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে। তারা দুজনই ওই কারখানায় দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কারখানায় মোট ২০ জন আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় বজেন্দ্র বিশ্বাস ও নোমান মিয়া একই কক্ষে পাশাপাশি বসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় দুষ্টুমির ছলে নোমান মিয়া নিজের সরকারি শটগানটি বজেন্দ্র বিশ্বাসের দিকে তাক করে বলেন, ‘দাদা গুলি করে দেই?’ এরপরই অসাবধানতাবশত শটগান থেকে গুলি বের হয়ে বজেন্দ্র বিশ্বাসের বাম উরুতে বিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বজেন্দ্র বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আকস্মিক এ ঘটনায় কারখানাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নোমান মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত সরকারি আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় লোড করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এমন অবহেলা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ ও তদারকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নিহত বজেন্দ্র বিশ্বাসের পরিবার এ ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
মতামত