মানবপাচার এবং অভিবাসীদের অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং পাচারকারী চক্র দমনে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। একই সঙ্গে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধির বিষয়েও দুই নেতা একমত হন। সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, চোরাচালান এবং দলিলাদি জালিয়াতি রোধে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি খসড়া চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে।
আধুনিক পুলিশিং ও সাইবার অপরাধ দমনেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো এবং অপরাধ তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে সংগঠিত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি নিরাপদ ও শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম তৈরির তাগিদ দেন দুই মন্ত্রী। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও আলোচনার টেবিলে গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধির আহ্বান জানান এবং মিয়ানমারের সঙ্গে গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও এই সহযোগিতার ধারা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
মতামত