পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে শিউরে উঠতে হয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস-এর তথ্য অনুযায়ী, কেবল এপ্রিল মাসেই পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯৪ জন নারী ও শিশু। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর মব ভায়োলেন্সের নামে অধর্মের চর্চায় প্রাণ যাচ্ছে অগণিত মানুষের। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই লাশের মিছিল ২০২৬ সালেও এসে থামেনি; বরং প্রতি মাসেই শত শত মানুষ খুনের শিকার হচ্ছেন। চট্টগ্রামের বায়েজিদে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবক হত্যা কিংবা নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, জনপদে ধর্মের শাসন ও আইনের ভয় আজ নামমাত্র।
সমাজ-অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়া এই অরাজকতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। অপরাধীরা যখন দ্রুত দণ্ডিত হয় না, তখন সমাজে অধর্মের বিস্তার ঘটে এবং মানুষের মনে ক্রোধ ও হিংসা বৃদ্ধি পায়। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি ঘটনা তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করলেও সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। চারদিকে এই লাশের মিছিল আর হাহাকারের মাঝে শান্তির অন্বেষণ আজ যেন এক সুদূরপরাহত স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষার পুনর্জাগরণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
মতামত