ব্যাপক সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদলের বিষয়ে বাংলাদেশ বেতারের বার্তা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ শরীফুল কাদের জানান, আদেশের ভাষাগত দিক নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় এবং কিছু ত্রুটি থাকায় এটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফেসবুক লাইভে উপস্থাপকদের পোশাকের শালীনতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে নোটিশটি দেওয়া হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি আরও জানান, সর্বমহলের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রেখে এবং সব ধরনের সমালোচনা এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে শিগগিরই একটি পরিমার্জিত ও সুন্দর পোশাকবিধি পুনরায় প্রণয়ন করা হবে।
তীব্র সমালোচনার মুখে ওড়না ও টিপ নিষিদ্ধের বিতর্কিত আদেশ প্রত্যাহার করল বাংলাদেশ বেতার
বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ বুলেটিন ফেসবুক লাইভে প্রচারের ক্ষেত্রে সংবাদ উপস্থাপকদের ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘ড্রেস কোড’ বা পোশাকবিধি শেষ পর্যন্ত তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নারী উপস্থাপকদের কপালে বড় টিপ পরা এবং একপাশে ওড়না রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সনাতনী সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ 'টিপ' পরার ওপর এমন মনস্তাত্ত্বিক আঘাত এবং পোশাকের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে রোববার বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এ এস এম জাহিদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পূর্বের নির্দেশনাটি পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করা হয়। অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ৪ মে বেতারের বার্তা বিভাগের উপমহাপরিচালক তানিয়া নাজনীন স্বাক্ষরিত এক বিতর্কিত আদেশে নারী সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য ওড়নাসহ ফুলহাতা সাদামাটা সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি পরার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, কপালে বড় আকারের টিপ কিংবা একপাশে ওড়না পরা যাবে না। অন্যদিকে পুরুষ উপস্থাপকদের জন্য টি-শার্ট ও গেঞ্জি নিষিদ্ধ করে টাইসহ ফুলহাতা শার্ট বা পার্বণে পাঞ্জাবি পরার নিয়ম করা হয়েছিল। একটি স্বাধীন ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতীক ‘টিপ’ নিষিদ্ধ করার এই অপপ্রয়াসকে সনাতনীদের সাংস্কৃতিক অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী হিসেবে দেখছিলেন সচেতন মহল।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত