বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক তোফায়েল আহমেদ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন এবং পারিবারিক সূত্রগুলো।
একটি অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তোফায়েল আহমেদের অবদান এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার, সনাতনীদের মানবিক মর্যাদা এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় তিনি সবসময়ই ছিলেন এক সংবেদনশীল কণ্ঠস্বর। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন ছাত্রসমাজের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা এদেশের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে চিরকাল অনুপ্রেরণা জোগাবে।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন তরুণ নেতৃত্বের শক্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একাধিকবার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাবেক এই উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই মহান নেতার প্রয়াণে HINDUS NEWS পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
মতামত