স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগ চন্দ্র দাস ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কয়েকদিন আগে তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। বুধবার বিকেলে হঠাৎ আকাশে কালো মেঘ জমে এবং আবহাওয়া বিরূপ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির আশঙ্কায় বাড়ির উঠানে শুকাতে দেওয়া খড় দ্রুত ঘরে তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়।
এ সময় কল্পনা রাণী তার ছেলে সোহাগকে খড় আনতে ডাক দেন। মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে সোহাগ বাইরে বের হন এবং দুজনে মিলে খড় সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আকস্মিকভাবে একটি শক্তিশালী বজ্রপাত তাদের ওপর আঘাত হানে। বজ্রপাতের তীব্রতায় মা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। দ্রুত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে মা ও ছেলে দুজনেরই মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মান্দুরা গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহিন আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে ছুটিতে বাড়ি আসা ছেলের সঙ্গে মায়ের একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। আবহাওয়াবিদরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও সবাইকে আবহাওয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মা ও ছেলের এই করুণ মৃত্যুতে মান্দুরা গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মতামত